আমাকে পাশে শুইয়ে অন্য মেয়ের সঙ্গে সেক্স! থ্রিসামে বাধ্য করত, চায়নি সন্তান

Spread the love

গো-মাংস কাণ্ডের রেশ কাটতে না কটাতেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে চক্রবর্তী পরিবার। সায়ক চক্রবর্তীর প্রাক্তন বৌদি তথা অভিনেত্রী সুস্মিতা সদ্য বিয়ে সেরেছেন। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার শেষ নেই। সুস্মিতা-সব্যসাচীর ডিভোর্স থেকে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, নানান আলোচনা-সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিয়ের পোস্টে মা হতে চাওয়ার ইচ্ছের কথা জনালে সুস্মিতাকে খোঁটা দেন সায়ক। সেই অপমান মুখ বুজে মেনে নিলেও বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে একের পর এক বোমা ফাটালেন কৃষ্ণকলি খ্যাত অভিনেত্রী।

ভাঙা বিয়ে থেকে প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ি তথা স্বামীকে নিয়ে সুস্মিতা যা বললেন তা শুনে চোখ ছানাবড়া নেটপাড়ার। তিনি শুরুতে যা বলেন, তা শুনে ঢোঁক গিলছেন অনেকেই। সরাসরি দাবি, ‘আমি ভালো নই, চক্রবর্তী পরিবার কি ধোওয়া তুলসী পাতা? এক্স বান্ধবীদের সেক্সুয়াল ভিডিয়ো তুলে রাখত, সেগুলো আমাকে দেখাত। আমাকে পাশে শুইয়ে অন্য মেয়ের সঙ্গে সেক্স! কি আঁতকে উঠছেন না?’

অভিনেত্রী বলেন, বিয়ে তিনি ভাঙতে চাননি। শুধু চেয়েছিলেন সন্তান। মা হওয়ার তাগিদ ছিল না। কিন্তু বাচ্চা চায়নি স্বামী তথা শ্বশুরবাড়ির কেউই। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা না হওয়া আর বাচ্চা না চাওয়া দুটো এক নয়। আমার বাচ্চা, যেটা হতে গিয়ে মারা গেছে, সেটা ২০১৯-এ। তার মাঝে কেন বাচ্চা হয়নি? আমি বাঁজা ছিলাম? আমি অনেক মন্তব্য় শুনেছি। আমি বাঁজা, আমি উড়নচণ্ডী। আমি সংসার মেটেরিয়াল নই। ডিভোর্সের পর ওদের বিরুদ্ধে যাইনি। কোনও কথা বলিনি। আমি তো ডিভোর্সটা চাইনি। আমি তো ভেবে নিয়েছিলাম আমার বাচ্চা হবে না, কারণ সব্য়সাচী বাচ্চা চায় না, ওর ফ্য়ামিলি বাচ্চা চায় না। এই চক্রবর্তী ফ্য়ামিলি, এই সায়ক, সব্য়সাচী কবে আমার পিছন ছাড়বে আমি জানি না।’

সুস্মিতা আরও বলেন, ‘সাধের যে ছবিটা পোস্ট করে সায়ক চক্রবর্তী আমারে উইশ করার ভান করেছে, সেই সাধটা কিন্তু আমি নিজে অ্য়ারেঞ্জ করেছিলাম। বাজারটাও আমি করেছিলাম। মিষ্টিটাও আমি কিনে এনেছিলাম। একটা সুন্দর লেখার পিছনে কত বড় শয়তান লুকিয়ে থাকে সেটা আমি ছাড়া কেউ জানে না।’

এই বরের সঙ্গে নাকি আমার সম্পর্ক, তাই বিয়েটা ভেঙে গেছে। শেষ দু-বছর সব্যসাচীর সঙ্গে কোনও শারীরিক সম্পর্ক ছিল না, কারণ সে তখন অন্য মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত। ডিভোর্স কাকে বলে একটা কাগজে সাইন করা? আমি বাচ্চা চাই, আমি বিয়ে করব এটা ঠিক ছিল। আমার ৯ তারিখ পর্যন্ত লিগ্যাল কিছু কাগজে সই করার ছিল। তারপর হাতে ১০-১১-১২ তিনটে দিন ছিল। চৈত্র মাস পড়ে যাবে তো, ৩৬ বছর বয়স হয়ে গেছে। মা তো আমাকে হতেই হবে।’

প্রাক্তন স্বামীর পিছনে জলের মতো টাকা খরচ করেছেন, তবু মন পাননি। সুস্মিতা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আজ বলেছে লাদাখ নিয়ে চল, ওই মেয়েটাকে নিয়ে আয় থ্রিসাম করলে সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাবে। বউকে দেখতে দেখতে নাকি মানুষ বোর হয়ে যায়। এখন মনে হয় ওগুলো সব ভুল, মিথ্যে।…. কাজের জন্য বসের সাথে বিছানা ভাগ, সবটাই আমার জানা। আমারও সম্পর্ক ছিল, বিয়ের আগে। একজন প্রোডিউসারের সাথে। কিন্তু সেটা বিয়ের আগে ছিল। তিন মাসের সম্পর্ক ছিল, সেটা নিয়েও আমাকে শুনতে হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, খারাপ তকমা লেগেই আছে।’

আমাকে দিনের পর দিন থ্রেট শুনতে হয়েছে চক্রবর্তী ফ্যামিলিতে। আজকের দিনে যদি বাঁচতে চাওয়াটা অপরাধ হয়, যদি লিভইন না করাটা যদি অপরাধ হয়, আজকালকার মর্ডান মেয়েদের মতো বাচ্চা নেব না না বলে বাচ্চা চাওয়াটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমি অপরাধী।

ফ্ল্যাটটা একান্তই আমার। আমার টাকায় কেনা। আমি কাউকে ঘরছাড়া করিনি’, এর প্রমাণ দেওয়ার জন্য় সমস্ত নথিপত্র সুস্মিতার কাছ বলে দাবি করেন তিনি। অভিনেত্রীর প্রশ্ন, চারটে বিয়ে করা অপরাধ নাকি ১০টা মানুষের সঙ্গে লিভ ইন করাটা? বউয়ের সামনে অন্য মেয়ের সাথে শোয়াটা কী অপরাধ? নাকি আমি বাচ্চা চেয়েছি সেটা অপরাধ? মা আমি হবই, তা আপনারা যতই নোংরা কমেন্ট করুন না কেন।

আমাকে বলত, ওর সঙ্গে সম্পর্কে যা, এই সমস্ত জিনিসগুলো আমাকে আদায় করে দে। কম্পিউটার থেকে শুরু করে অনেক দামী দামী জিনিস আমার থেকে নিয়েছে আর কী। যাকে বলে বউকে ব্য়াচা আর কী। সেও আমাকে ঠকায়, আমি আবার সব্যসাচীর কাছে ফিরে আসি।

চোখে জল নিয়ে সুস্মিতার প্রশ্ন, ‘বউয়ের সামনে অন্য মেয়েদের সঙ্গে শোওয়া যায়, করা যায় কি? গত সাত বছর ধরে তো আমি নর্ম্য়াল লাইফ চেয়েছিলাম। সংসার চেয়েছিলাম, বাচ্চা চেয়েছিলাম। আমি হার মানিনি সেই সুন্দরবন থেকে এসে। হেরে যায়নি, থেমে যাইনি।’

সুস্মিতার লাইভ চলাকালীনই ফেসবুক পোস্টে সুস্মিতার প্রাক্তন স্বামী জানিয়েছেন, এরপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তাঁর হাতে অন্য কোনও রাস্তা খোলা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *