পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে আরও এক দফায় বাড়ল গ্যাসের দাম। সম্প্রতি কাতারে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস প্লান্টে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই হামলার জেরে কাতারের সেই প্লান্টের গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা কমে গিয়েছে ১৭ শতাংশ। এই ক্ষয়ক্ষতি মেরামতি করতেই নাকি ৫ বছর লেগে যাবে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের পকেটেও পড়তে চলেছে টান। কয়েকদিনের মধ্যেই আরও এক দফায় বাড়ল গ্যাসের দাম। রিপোর্ট অনুযায়ী, অটোর গ্যাসের দাম একলাফে ৮ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হল। এর আগে কয়েকদিন আগেই লিটারে ৫ টাকা করে বেড়েছিল অটোর গ্যাসের দাম।
আজ থেকে ৭০.৬৮ টাকা প্রতি লিটার দরে বিক্রি হবে অটোর গ্যাস। উল্লেখ্য, দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই। গ্যাসেরও সংকট নেই। তবে গ্যাস ভরাতে অটোগুলিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এরই মাঝে কয়েকদিনের ব্যবধানে দুই দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেল। এর আগে লিটারে গ্যাসের দাম ৫ টাকা বাড়তেই বহু রুটে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অটোচালকরা। এবারও সেই ঘটনা ঘটলে তাতে পকেটে চাপ পড়বে আম জনতার।
কাতারে ইরানের হামলার পর থেকেই ভারতের মতো দেশে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) গভীর সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ভারত নিজেদের মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ (বার্ষিক প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন) কেবল কাতার থেকে আমদানি করা হয়। এর আগে সম্প্রতি ইরানের ‘পারস গ্যাস ক্ষেত্রে’ ইজরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এরই প্রতিশোধ নিতে কাতারে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই) হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগেই ইরান সৌদি, আমিরাতি এবং কাতারি নাগরিকদের তেল ও গ্যাস স্থাপনার এলাকা থেকে সরে যেতে বলে। এই সব পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামালা চালানো হবে বলে আগম বার্তা দেয় ইরান। এই আবহে কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান শোধনাগার, সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ক্ষেত্রে উড়ে যায় ইরানি মিসাইল।

এদিকে ইরানের এই হামলায় কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পারস গ্যাস ক্ষেত্রে যে ইজরায়েল হামলা চালাবে, তা তাঁর জানা ছিল না। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, ‘এরপর ইজরায়েল আর কোনও হামলা করবে না’। এরই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন, কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে ইরানের পুরো গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেবে আমেরিকা। আবার সৌদি আরবও ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ভালো ভাবেই টের পাচ্ছেন ভারতবাসী।