ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। এই আবহে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দিকে নাকি বিশাল সামরিক বহর ধেয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নাকি তেহরানে আত্মগোপনে চলে গিয়েছেন। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি একটি বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন। ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতে, খামেনেইকে যে বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা টানেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এবং আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম দ্বারা সুরক্ষিত। ভেনেজুয়েলার মাদুরোর মতো তাঁকেও আমেরিকা তুলে নিয়ে যেতে পারে বলেই খামেনেই বাঙ্কারে লুকিয়েছেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
এদিকে আয়াতুল্লাহ বাঙ্কারে যাওয়ার পর নাকি তাঁর তৃতীয় পুত্র মাসুদ খামেনেই অফিসের দৈনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকারের সাথে খামেনেইয়ের যোগাযোগের প্রধান চ্যানেল হিসাবে কাজ করছেন মাসুদ। এদিকে এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর যেকোনও হামলাকে পুরো দেশের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, একটি আমেরিকান ‘আর্মাডা’ (যুদ্ধ বহর) ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার বর্তমানে ভারত মহাসাগরে মোতায়েন রয়েছে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুদ্ধের মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।
বিগত কয়েক মাস ধরে ইরানে নাগরিক বিক্ষোভ জারি রয়েছে। ইসলামি শাসকদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। ইরানি মোল্লাহদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ খুন হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই আবহে আন্দোলনকারীদের এর আগেও ‘সাহায্যের’ বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দখলের জন্য উস্কানি দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীদের। এমনকী সামরিক পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু অবশ্য ট্রাম্প করেননি। বরং উলটে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়েছেন তিনি। তবে সম্প্রতি তিনি আবার দাবি করেন, ইরানের দিকে নাকি বড় বাহিনী যাচ্ছে। এতেই তটস্থ হয়েছে তেহরান।
