বাংলাদেশে নাকি কোনও ‘বিধর্মী’ (সংখ্যালঘু) সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। এমনই মন্তব্য করল এক জামাত নেতা। জানা গিয়েছে, আফজাল হোসেন নামে হিন্দুবিদ্বেষী জামাত নেতা এই ভাষণ দেয় বরগুনা-২ আসনে জামাত মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে। জনসভায় বক্তব্যে আফজাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা কি আল-কোরান চান, না বেদায়াত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চ স্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে- এই দেশ মুসলমানের দেশ।’
এরপর সেই জামাত নেতা আরও বলেন, ‘যেখানে ৮০ পার্সেন্ট লোক মুসলমান, সেখানে কোনও দিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। সংবিধান থাকতে পারে না। বাংলাদেশে কী শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজকে চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, আর কি এই এলাকায় চুরি হবে? সেই শাসন আমরা চাই। আপনার চিন্তা নেই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’ যদিও এই ভাষণ নিয়ে জামাত প্রার্থী সুলতান আহমেদ বলেন, ‘ভাষণ দেওয়া ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত। আবেগে বলে ফেলেছে। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকে না।’
এদিকে বাংলাদেশে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা। এর আগে বাংলাদেশে ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি নরসিংদীতে এক গ্যারাজের শাটারে তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে খুন করা হয় হিন্দু যুবক চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিককে। এর আগে ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের অটোচালককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন জয় মহাপাত্র। এর আগে মিঠুন সরকার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ছিলেন বিলে ঝাঁপ দিয়ে। তার আগে গত ৫ জানুয়ারি ২ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নরসিংদীতে খুন করা হয় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি। তার আগে ৫ জানুয়ারি যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে। এছাড়া গত ২ জানুয়ারি খুন হয়েছিলেন সত্য রঞ্জন দাস। ৩ জানুয়ারি খুন হন মিলন দাস এবং সনু দাস। গত ৩১ ডিসেম্বরে হামলার শিকার খোকন চন্দ্র দাসেরও মৃত্যু হয় ৩ জানুয়ারি। ৪ জানুয়ারি খুন হন শুভ পোদ্দার। এর আগে ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের খুনের ঘটনা সামনে এসেছিল সেই দেশে।
