আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ফের এক চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের লিফটে আটকে পড়ে প্রাণ হারালেন এক রোগীর পরিজন। অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তাঁর ছেলেকেই ট্রমা কেয়ার সেন্টারে আনা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগের বাজারের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁর ছেলের হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। ভোরে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে তিনি ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায় যান। সেখান থেকে নিচে নামার সময় লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লিফটটি গ্রাউন্ড ফ্লোরে না থেমে সরাসরি বেসমেন্টে চলে যায় এবং সেখানে লক হয়ে যায়। মৃতের আত্মীয়দের অভিযোগ, লিফটে কোনও অপারেটর ছিলেন না। অরূপবাবু ভেতর থেকে চিৎকার করে সাহায্যের আবেদন জানালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দ্রুত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা লিফটের ভেতরে ছটফট করার পর যখন দরজা খোলা হয়, তখন দেখা যায় অরূপবাবু নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয় ও অন্যান্য রোগীর পরিজনেরা। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টালা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। হাসপাতাল চত্বরে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই আবহে পরিবারের এক সদস্য বলছেন, ‘ওর ছেলের হাত ভেঙেছে বলে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। ও তো পুরোপুরি সুস্থ ছিল। লিফটটা খুলে গেলে ওকে এভাবে চলে যেতে হতো না।’ আরও একজন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আগের মতো আরজি কর আর নেই এখন। একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। লিফট আটকে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ উনি ডাকাডাকি করেছিলেন। তারপর চিৎকারও করেন। পরিবারের সদস্যরাও অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু সিকিউরিটি গার্ড বলে আমার কাছে চাবি নেই কী করে খুলব। রাতে তো লিফটম্যান থাকার কথা। কিন্তু থাকে না তো।’ এদিকে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কীভাবে ওই ব্যক্তি লিফটে আটকে রইলেন, কেন কারও সাহায্য চাইতে পারলেন না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে আরজি করের পরিষেবা নিয়েও। এই ঘটনায় হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় উদ্ধারকাজের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এক ঘণ্টা ধরে কেন কাউকে পাওয়া গেল না, সেই উত্তর খুঁজছে নিহতের পরিবার।
