ইরান যুদ্ধে মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নীরব ট্রাম্পের নয়া দাবি: ভারত-পাক সংঘাতে ১১টি বিমান ধ্বংস হয়!

Spread the love

ইরান যুদ্ধ থামাতে পারছেন না। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধও থামাতে পারছেন না। তবে ফের একবার বড় গলায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর দাবি করে ট্রাম্প বললেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় নাকি সব মিলিয়ে ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে নাকি ১০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। উল্লেখ্য, সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব দাবি করা ছাড়াও ট্রাম্প বারবার বোঝাতে চাইছেন যে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ ছিল এবং আরও কতটা ভয়াবহ তা হতে পারত। তাঁর বরাবরের দাবি, এই সংঘাত পারাণিবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত। এবারও সেই দাবিই করেন ট্রাম্প। এবং আবারও যুদ্ধবিমান ধ্বংসের সংখ্যা নিয়ে নয়া দাবি করলেন ট্রাম্প। নিজের দেশের একাধিক বিমান ধ্বংস হয়েছে ইরান যুদ্ধে। তবে তা নিয়ে মুখ না খুলে এখনও অপারেশন সিঁদুরেই পড়ে আছেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জুলাই থেকেই অপারেশন সিঁদুর নিয়ে নানা দাবির কথা শোনাচ্ছেন ট্রাম্প। একেক সময় একেক সংখ্যায় বিমান ধ্বংস হওয়ার কথা বলছেন তিনি। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইতে ট্রাম্প বলেছিলেন ভারত-পাক সংঘাতে ৫টা যুদ্ধবিমান ভেঙেছে, এরপর অগস্টে সেটা ৭ হল। আর নভেম্বর আসতে আসতে ট্রাম্প দাবি করেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় নাকি ৮টা বিমান ধ্বংস হয়েছিল। সেটা বেড়ে ১০ হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এবার এপ্রিল শেষ হতে হতে তা হয়েছে ১১।

উল্লেখ্য, ইরানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কথাটি ঘুরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু করছি। আমরা রাশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছি। আমি এত সব যুদ্ধ থামিয়েছি এর আগে। আমি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছি। সেই যুদ্ধটি পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত। তারা ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিল। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, এই যুদ্ধ হলে ৩-৪ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারত।’ তবে এত কিছু বলা ট্রাম্প নিজের দেশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চুপ আছেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, সংখ্যাটা ১০-এর কাছাকাছি, বা এমনকী বেশিও হতে পারে। এর মধ্যে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, এ-১০ অ্যাটাক জেট, কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান রয়েছে। এছাড়াও একাধিক দামী সব ড্রোন রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তথ্যমতে, কুয়েতের আকাশে ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল বন্ধুরাষ্ট্রের গুলিতেই। এছাড়া ইরাকের আকাশে একটি রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হয়েছিল, অপর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দক্ষিণ ইরানে এক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। সেই বিমানের পাইলটকে ‘উদ্ধার’ করতে গিয়ে নিজেদেরই দুটি পরিবহণ বিমান নাকি আমেরিকাকে ধ্বংস করে দিয়ে আসতে হয়েছিল। আর ইরান বিভিন্ন জায়গায় আরও বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি করেছে। যদিও সেই সব ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখনও সার্বিক ভাবে মুখ খোলেনি পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউজ।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি শুল্ককে হাতিয়ার করে ভারত ও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শন্তি স্থাপন না করলে তিনি বাণিজ্য চুক্তি করবেন না। এর আগে এই শুল্ক আরোপ নিয়েও একেক রকম দাবি শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের গলায়। তাঁর সর্বশেষ দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প নাকি ভারত ও পাকিস্তানের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছিলেন অপারেশন সিঁদুরের সময়। ভারত অবশ্য এই সব দাবি শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছে। দিল্লি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়, অপারেশন সিঁদুরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কোনও কথাই হয়নি। যদিও ট্রাম্প বলেন, তিনি নাকি সরাসরি মোদীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয়কে খুন করেছিল। এর জবাবে ভারত ২০২৫ সালের ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *