ইসলামাবাদে আলোচনার আগে বড় দাবি রিপোর্টে

Spread the love

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরুর ঠিক আগে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হল রিপোর্টে। ইরানে নাকি শাসকদের মধ্যে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফ শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। সেই গালিবাফের নাকি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বর্তমান নেতৃত্বের সাথে সংঘাত বেঁধেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে নাকি আইআরজিসি এবং গালিবাফের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ছিল।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার-ইন-চিফ আহমেদ ওয়াহিদি গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির প্রতি অসন্তুষ্ট। এই আবহে আলোচনাকারী দলে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফের প্রভাব সীমিত করার চেষ্টা করে আইআরজিসি। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী চেয়েছিল ওয়াহিদি মহম্মদ বাগের জোলকাদেরকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপর আইআরজিসির সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে জোলকাদরকে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিযুক্ত করেছিল। তবে জোলকাদেরকে আলোচনাকারী দলে অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেন গালিবাফ। তাঁর বক্তব্য, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই জোলকাদরের।

এদিকে আইআরজিসি’র কমান্ডার-ইন-চিফ এবং আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস কমান্ডার জোর দিয়ে বলেছেন যেকোনও মূল্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে কোনও আলোচনা করা উচিত নয় গালিবাফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের। এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গুরুত্ব পাবে। তাঁর কথায়, ‘(ইরানের) কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারবে না। এটাই আলোচনার ৯৯ শতাংশ।’ এর আগে ইরানিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানিরা বুঝতে পারছে না যে তাদের হাতে কোনো তুরুপের তাস নেই। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক জলপথকে ব্যবহার করে স্বল্পমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারবে তারা। তারা আজ বেঁচে আছে শুধু আলোচনা করার জন্য।’ এই আবহে আলোচনা সফল না হলে আমেরিকা ফের একবার ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীনই সেই দেশে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে বলেন, ‘ইরানিরা যদি আন্তরিকতার সাথে আলোচনা করতে ইচ্ছুক হয়, তবে আমরা অবশ্যই তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *