এভারেস্টের প্রথম অভিযানের সহযাত্রী কাঞ্চা শেরপা মারা গেছেন

Spread the love

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট এভারেস্টের প্রথম অভিযানের সহযাত্রী কাঞ্চা শেরপা মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) কাঠমান্ডুর কাপান এলাকায় ৯২ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।এদিকে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নেপালের মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশনে। তারা কাঞ্চা শেরপাকে ঐতিহাসিক এবং কিংবদন্তী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

১৯৫৩ সালে তিনি তেনজিং নোরগে ও এডমুন্ড হিলারির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন। যদিও সেই অভিযানের পর থেকে নিজের স্ত্রীর অনুরোধে আর হিমালয়ের চুড়ায় ওঠেননি কাঞ্চা।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন কাঞ্চা শেরপাকে একজন ‘ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফুর গেলজে বলেন, ‘কাঞ্চা শেরপার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার অনুপস্থিতি এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

তেনজিং চোগ্যাল শেরপা জানান, সম্প্রতি তার দাদা কাঞ্চা শেরপার গলায় কিছু সমস্যা হয়েছিল। তবে ৯২ বছর বয়সি পর্বতারোহীর তেমন কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না।

কাঞ্চা ১৯৩৩ সালে এভারেস্টের পাদদেশে নামচে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তখন শেরপা সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ করতেন, যদিও তারা পর্বতারোহণের গাইড হিসেবে বিখ্যাত।

তিনি শৈশব ও যৌবনে তিব্বতে আলু ব্যবসা করে সামান্য আয় করতেন। পরে তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু ভারতের দার্জিলিংয়ে গিয়ে পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি বিদেশি পর্বতারোহীদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

বাবার সঙ্গে তেনজিং নোরগের বন্ধুত্বের কারণে কাঞ্চা শেরপা তেনজিং এবং হিলারির পোর্টার হিসেবে কাজ পান। ১৯৫৩ সালের অভিযানের পর তিনি আরও দুই দশক হিমালয় পর্বতে কাজ করেন।

তবে তার অনেক বন্ধু পর্বতারোহণে মারা গেলে তার স্ত্রী তাকে এই বিপজ্জনক কাজ বন্ধ করতে বলেন। কাঞ্চা নিজে কখনও এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেননি। ২০২৪ সালের মার্চে এপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাঞ্চা শেরপা বলেন, তিনি তার সন্তানদেরও পর্বতারোহী হতে নিষেধ করেছিলেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *