লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক হামলা ও আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাবে তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
বুধবার (১০ জুন) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা এখন তুরস্কের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের ‘আগ্রাসন’ পুরো বিশ্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
এরদোয়োনের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান নেতানিয়াহু। হিব্রু ভাষায় দেয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক এরদোয়ান, কুর্দিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছেন, হামাসকে সমর্থন করছেন, নিজ দেশের জনগণকে দমন করছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারাগারে বন্দি করছেন—তিনি ইসরাইলকে নৈতিকতার পাঠ দেয়ার শেষ ব্যক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইল এবং বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী আইডিএফ ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে শক্তভাবে পদক্ষেপ নিতে থাকবে। এসব গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্কের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের অভিযোগ তুলে আসছে। এছাড়া তুরস্কের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক অভিযান নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। তবে আঙ্কারা এসব অভিযোগ, বিশেষ করে গণহত্যার অভিযোগ, বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
ইসরাইল এর আগে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ করেছে। হামাসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা তুরস্কে অবস্থান করছেন বলেও দাবি তেল আবিবের।

এরদোয়ান অতীতে হামাস সদস্যদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরাইলের সমালোচনা করতে গিয়ে দেশটিকে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নেতানিয়াহুকে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।