মুছল মহাত্মা গান্ধীর নাম, বদলে গেল ১০০ দিনের কাজ। তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাশ হয় দ্য বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা ‘জি রাম জি’ বিল। বিরোধীদের তুমুল আপত্তি উড়িয়ে মাঝরাত পর্যন্ত চলা আলোচনা পর্বের পর রাজ্যসভাতেও সবুজ সংকেত পায় নতুন বিলটি। এটি আসলে কংগ্রেস জমানার মনরেগা প্রকল্পেরই আপডেটেড সংস্করণ। এরপরেই প্রতিবাদে অধিবেশন ওয়াকআউট করেন বিরোধী সাংসদরা। তাদের কথায়, মনরেগা বা মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত আইন মুছে কৌশলে ‘রামনাম’ ঢোকানো হয়েছে। আর এর প্রতিবাদে পুরনো সংসদ ভবনের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে ধরনায় বসে পড়েন কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ বিরোধী সাংসদরা।
এদিন সংসদে ‘জি রাম জি’ বিল পাশের জবাবি ভাষণ শুরু করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী সাংসদরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তাদের দাবি ছিল, এই বিলটি পর্যালোচনার জন্য যুগ্ম সংসদীয় কমিটি বা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হোক। পরে বিল প্রত্যাহারের দাবি জানায় তারা। গান্ধীজির গ্রাম স্বরাজের ছবি হাতে তাঁরা নেমে আসেন ওয়ালে। স্লোগান ওঠে, ‘উই ওয়ান্ট নারেগা! রামজি বিল ওয়াপস লো! মোদী সরকার হায় হায়!’ বিলের কপি ছিড়ে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা। চলে প্রবল হট্টগোল। এরপরে রাজ্যসভায় এই বিল নিয়ে তর্ক শুরু হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত সেই তর্ক-বিতর্ক চলে। রাত ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ ধ্বনি ভোটে রাজ্যসভাতেও এই বিল পাশ হয়ে যায়। তারপরেই ওয়াকআউট করে ধরনায় বসে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। শুধু লোকসভা নয়, রাজ্যসভাতেও ‘জি রাম জি’ বিলের প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের বক্তা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন আর ডেরেক ও’ব্রায়েন। দোলা সেন বলেন, ‘ওরা আমাদের কোনও কথা শোনেনি। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে বিল পাশ করেছে। আমরা বলেছিলাম যে এই বিল স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নিয়ে যাওয়া হোক। একটু সময় নিক, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঁচ ঘণ্টায় মিটিয়ে ফেল না। ভোরবেলা গরিব মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখবে, তাদের অধিকার চলে গিয়েছে, তাদের কাজ নেই। তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করে শেষদিনে এভাবে স্বৈরতন্ত্র, আমরা ধিক্কার জানাই।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে বিল পেশ করেন শিবরাজ সিং চৌহান। মনরেগার নাম পরিবর্তন করে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) করার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিলে। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত জি রাম জি বিল নিয়ে বুধবার আলোচনা শুরু হয় সংসদে। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায়। পেরিয়ে যায় সংসদ অধিবেশন বন্ধের সময়ও। বিতর্ক থামেনি। শাসক ও বিরোধী মিলিয়ে মোট ৯৮ জন এই বিল নিয়ে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন। বিতর্ক চলে মধ্যরাত পেরিয়ে। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অধিবেশন মূলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার ওম বিড়লা। বৃহস্পতিবার এই বিল নিয়ে বিরোধীদের যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। বিপুল বিরোধিতার মধ্যেই দুপুর লোকসভায় এবং মাঝরাতে রাজ্যসভায় বিলটি সবুজ সংকেত পায় কেন্দ্রের। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিলে ১০০ দিনের কাজের পরিমাণ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাছাড়া আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হত। এবার থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্যে কত বরাদ্দ করা হবে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ পাবেনই, তেমন কোনও নিশ্চয়তা থাকছে না। আগে এই বিলে কাজের নিশ্চয়তা ছিল।
