বাংলাদেশের কক্সবাজারের রামুতে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম। জানা গিয়েছে, এই সব সরঞ্জাম যাচ্ছিল মায়ানমার সীমান্তের কাছে নাইক্ষ্যংছড়িতে। এই ঘটনায় একটি মিনি পিকআপ ভ্যান বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। পুলিশ নাকি জেরা করে জেনেছে, সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় মায়ানমারের সেনা বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহী বাহিনীর কাছে এই সব সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল ভ্যানটি।
জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা মিনি পিকআপ ভ্যানটি থেকে ৩২টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। সেই সব বস্তায় সব মিলিয়ে ১৬০০ টুকরো আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিনের পকেট ছিল। এদিকে ঘটনায় ধৃতদের নাম মহম্মদ শাহজাহান, মহম্মদ ইলিয়াস, আতিকুর রহমান। কারা এর সঙ্গে জড়িত তা শনাক্ত করতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে এই সামরিক সরঞ্জাম ধরা পড়ায় প্রশ্ন উঠছে, ইউনুসের প্রস্তাবিত ‘করিডোর’ কি তবে খোলা আছে চট্টগ্রাম এবং মায়ানমারের মধ্যে? সেখানে মানবিক ত্রাণ সামগ্রীর বদলে পাচার হচ্ছে সামরিক সরঞ্জাম?
এদিকে অপর এক ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে অভিযান চালায় বিজিবি। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টার শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলি অবশ্য স্থানীয় একটি ডাকাত দলের বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, একটা ডাকাত দলের কাছে মর্টার শেল সহ এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এল কীভাবে? রিপোর্ট অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত অস্ত্রগুলির মধ্যে আছে – ১টি জি-৩ রাইফেল, ১টি জি-৩ রাইফেলের অংশবিশেষ, ১টি রাইফেলের ম্যাগাজিন, ৪টি ওয়ান শুটার গান, ১টি এলজি, ১টি এম-১ (ভ্যারিয়েন্ট এমকে-২), ১টি একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল), ২টি সিলিং, ৩টি আরজিএস হ্যান্ড গ্রেনেড, ১টি মর্টার শেল, ১৭ কেজি গান পাউডার, ১০টি হাতবোমা তৈরির উপকরণ, বিভিন্ন ধরনের ৩০২ রাউন্ড গুলি।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডোর তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিল মহম্মদ ইউনুসের সরকারের। এই প্রস্তাবিত করিডোরের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে অশান্তি ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। উল্লেখ্য, এর আগে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় দাবি করেছিলেন, আমেরিকা সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে ঘাঁটি গড়তে চায়। এরই সঙ্গে ভারতের উত্তরপূর্বের খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলির সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ মিলিয়ে একটি খ্রিস্টান দেশ গড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মহম্মদ ইউনুসের মানবিক করিডোরের ছক কষে হাসিনার সেই সব বক্তব্যকেই কি সত্যি বলে প্রমাণিত করছেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। এরই মাঝে আবার কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল, কক্সবাজারে নাকি মার্কিন সেনাকর্মীরা গিয়েছিলেন। এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও নাকি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। তাঁর সেই সম্ভাব্য সফর ঘিরেও জল্পনা ছড়িয়েছিল।