প্রায় ৩০ বছর আগে টলিউডে কাজ করতে এসেছিলেন কাঞ্চন মল্লিক। কোনও গডফাদার ছাড়াই ধীরে ধীরে, টলিউডের নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। ছিল না কোনও অর্থ, তথাকথিত হিরোদের মতো চেহারা। কিন্তু তারপরেও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে সকলের মন জয় করেছিলেন। ৩০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি সেই মানুষগুলোকে ভোলেননি যাদের জন্য আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
খুব সম্প্রতি ‘অভিমান’ ছবির জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে টলিউডের বর্ষিয়ান পরিচালকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে সকলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি তোলেন কাঞ্চন মল্লিক। প্রসঙ্গত, অভিমান ছবিতে অভিনয় করেছেন কাঞ্চনও। হরনাথ চক্রবর্তী, স্বপন সাহা, অনুপ সেনগুপ্তর সঙ্গে ছবি তুলে পুরনো দিনের কথা স্মরণ করলেন কাঞ্চন।
পরিচালক একজন অভিনেতার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে কথা উল্লেখ করে কাঞ্চন লেখেন, ‘যে সময় আমি কাজ করেছিলাম সেই সময় পরিচালক ব্যক্তিটি প্রত্যেকের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয়ের ছিল। একটি ছেলে যে কোনও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই অভিনয় করতে আসে, নিজের দক্ষতা এবং থিয়েটারে অভিনয় চর্চার ওপর ভিত্তি করে। শুধুমাত্র কাজ শেখার আগ্রহ আর নিষ্ঠা ছিল বলেই কোনও নেপটিজম বা সুপুরুষ না হওয়া সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
যাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন তাঁদের কথা উল্লেখ করে তার জন্য লেখেন,’ স্বপন সাহা, হরনাথ চক্রবর্তী, অনু সেনগুপ্ত এবং যারা ছবিতে নেই তাঁরাও আমার কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও আছে নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এঁদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম বলেই আজ সারা বাংলা আমাকে কাঞ্চন মল্লিক হিসেবে চেনে। এই ছবি তুলতে গিয়ে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল, অনেক কষ্টের কথা মনে পড়ে গেল।’
সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমাদের কাছে পরিচালক মানেই ছিল শেষ কথা, যেখানে নিজের দাবি রাখার কোনও জায়গা ছিল না। হয়তো তাই জীবনে যতটুকু শিখেছি, ততটুকু দর্শকদের জন্য পুরোটা উজার করে দিই। নিজের স্মৃতিটুকু সকলের সঙ্গে শেয়ার করলাম।’
