টলিউডের ভিতরকার রাজনীতি বারবার এসেছে প্রকাশ্যে। এমনকী, যাদের গলায় গলায় ভাব, তাঁরাই হঠাৎ একে-অপরকে আক্রমণ করেছেন ছবি বক্স অফিসে মুখোমুখি হলে। বিশেষ করে পুজো, পয়লা বৈশাখ, দিওয়ালি, বড়দিনের মতো সপ্তাহ হলে তো কথাই নেই! ছোট থেকে বড়, সৃজিত থেকে দেব, রাজ থেকে শিবপ্রসাদ-নন্দিতা, এই লড়াইয়ে জড়িয়েছেন টলিউডের বড় বড় নামেরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেব হঠাৎ ফাটালেন বোমা। জানালেন যে, তাঁকে নাকি ২০২৬ সালের পুজোতে ছবি মুক্তি করতে নিষেধ করা হচ্ছে।
দেবকে এক সাক্ষাৎকারে ২৪ ঘণ্টায় বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এত বন্ধুত্ব আছে, যে কেউ পড়লেই, অপররা হাসবে। কারও ছবি যদি ফ্লপ হয়, অন্যদিকে বিরিয়ানি বাটা (হিন্দি শব্দ। বন্টন করা বলতে চেয়েছেন) হয়। এখানে কেউ কারও ভালোটা চায় না। তুমি অনির্বাণের (অনির্বাণ ভট্টাচার্য, যিনি কদিন আগে দাবি করেন যে তাঁকে কাজ দেওয়া হচ্ছে না) কথা কী বলছ, আগেরদিনই তো আমাদের স্ক্রিনিং কমিটির মিটিং হল। কী না ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার তৈরি হচ্ছে। আমি তো এমনিতেই এর বিরুদ্ধে। কারণ তুমি যদি ক্যালেন্ডার ঠিক করে দাও, তাহলে নতুন পরিচালকরা কোনোদিনও সুযোগ পাবে না। নতুন প্রযোজকরা টাকা ঢালার আগে ভয় পাবে, সব ডেট তো সবাই আগেই নিয়ে নিয়েছে। তাহলে আমি যে ইনভেস্ট করব তাহলে টাকাটা ফেরত আসবে কী করে। আমি আগেরদিন কমিটিকে বললাম, ‘ইউ শুড রিথিঙ্ক’। কারণ এই কমিটি গঠন হয়েছে, যাতে সিনেমা ঠিকঠাক করে মুক্তি পায়, আর বাইরে থেকে ইনভেস্টমেন্ট আসে। সব মিটিং হল। তারপরের আলোচনা ২০২৬ সালে পুজোতে কোন কোন সিনেমা রিলিজ করবে। আর প্রথম যে লাইনটা এল, দেব তুমি ২০২৬ সালের পুজোয় সিনেমা রিলিজ কোরো না।’
দেব আরও বলেন, ‘আমি তখন বললাম আমাকে ২টো লাইনে লিখে দাও, কেন ছবি রিলিজ করব না। কাল যখন প্রেস জিজ্ঞাসা করবে, আমাকে তো বলতে হবে। আমি লকডাউনেও ছবি রিলিজ করেছি, যখন কেউ করেনি। তুমি এমন একটা ছেলেকে বলছ, যে লড়াই করে এসেছে। কোনো যুক্তি ছাড়া তুমি বলছ, ছবি দিতে না। যে ছেলেটা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাংলা ছবির প্রচার করছে, বাংলা ভাষাকে ধরে রেখেছে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রেখেছে। যেই দলের হোক, ধর্মের হোক, সবাইকে নিয়ে কাজ করছে। তাকে তুমি বলছ ২০২৬ সালের পুজোতে আসবে না। আগে হত, যেই গাছে ফল হয়, সেই গাছে বেশি ঢিল পড়ে। আর এখন হচ্ছে যেই গাছে ফল হচ্ছে, তাকেই কেটে দাও, কারণ অন্য গাছে নাকি ফল হচ্ছে না।’

তা কেন এগুলো হচ্ছে? অভিনেতা-সাংসদের স্পষ্ট জবাব, ‘আমার মনে হচ্ছে, কেউ বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্য লড়ছে না। সবাই দেবের বিরুদ্ধে লড়তে ব্যস্ত।’