আবারও উত্তাল পরিস্থিতি বাংলাদেশে। আর কিছুদিন পরই বাংলাদেশে নির্বাচন। আর তা মধ্যেই এই নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির মৃত্যুতে বর্তমানে জ্বলছে বাংলাদেশ। এবার এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।
তিনি আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে আছে। খুবই দুঃখিত এই পরিস্থিতির জন্য। এই বাংলাদেশকে আমি চিনতে চাই না, জানতেও চাই না। আমার কোনও আগ্রহ নেই। সব কিছুর শেষ আছে, এই বার্তাই দিতে চাই। উপরওয়ালা সব দেখছে। এর দাম সবাইকে দিতেই হবে।’
উল্লেখ্য, এই প্রসঙ্গে দেব আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, মানুষ যেন শান্তিতে থাকে। মাঝে মাঝে ভয় লাগে। খবর দেখে মনে হচ্ছে, এখানেও যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। মনে হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-চিনের যুদ্ধ লেগে যাবে। কিন্তু এটা কাম্য নয়। আমি চাই, সবাই শান্তিতে থাকুন। সবাই ভাল থাকুন। আসলে তো দু’বেলার খাবার, আর মাথায় একটা ছাদ। বাড়িতে যাঁরা আছেন তাঁদের ভালো রাখা। তাঁর জন্য অন্য মানুষকে মারতে হয় না। এটা যদি এখন হয়, আগামী দিনে আরও খারাপ সময় আসতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। তাই আরও ভয় হয়। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব, আমরা যেন সবাই ভালো থাকি। সিনেমা চলুক বা না-চলুক আমরা যেন ভালো থাকি।’
প্রসঙ্গত, বহু সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বহুবারই হাদির মুখে উঠে আসে ভারত বিরোধিতা। তারপর গুলিতে আহত হয়ে টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষে মৃত্যু হয় হাদির। এই আবহে বর্তমানে ফের জ্বলছে বাংলাদেশ।

তার মধ্যেই ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারা হয় ময়মনসিংহে। ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ ভালুকা উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির পর তাঁকে গাছে ঝুলিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের বহু সংবাদমাধ্যমের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ছায়ানটের অবস্থাও ভয়াবহ। বাদ্যযন্ত্র থেকে লালন ফকিরের ছবি সবটাই ছেঁড়া ভাঙা অবস্থায় ছড়িয়ে থাকার ছবি বার বার উঠে আসছে। সব মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বাংলাদেশে। হামলা হয়েছে উদীচীতে। লাগাতার ভারতের হাইকমিশন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা হয়েছে।