‘কোয়েলকে চটিচাটা বলা হচ্ছে দেখে খারাপ লাগছে’

Spread the love

আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা (সংসদের উচ্চকক্ষ) নির্বাচন। দেশের মোট ১০টি রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এরপর সকলকে চমকে দিয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের দল রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেন কোয়েল মল্লিককে। কোয়েলের তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে এবার মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ।

তিনি ফিল্মি সফরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটা একটা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু সমাজমাধ্যমে নানা মানুষের কথা থেকে একটা জিনিস বেরিয়ে আসছে যে, সকলে যে কোয়েলকে ভালোবাসতেন, কোথাও গিয়ে সম্মানও করতেন সেটাতে কালি লেগে গেল তৃণমূলের। কোয়েল মল্লিককে বড় হবার জন্য কোনও জায়গায় সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়নি। তিনি ভিড় থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতেই, তাই বোধ হয় তিনি সম্মানিত হতেন। তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিক আমাদের শ্রদ্ধেয়। তার জন্য হয়তো টলিউডে এন্ট্রি পেতে, বা পরিচয় পেতে কোয়েলের সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু এন্ট্রি পেলেই তো হয় না। মানুষের ভালোবাসা নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে পেতে হয়। সেই কারণেই কোয়েল মল্লিকের ব্যবহার বা সেই সময় যেসব মহিলারা প্রথম সারিতে ছিল, তাঁদের সঙ্গে সমান সারিতে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন তিনি। কিন্তু স্যোশাল মিডিয়া খুললেই নানা মানুষের যে মন্তব্য সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা আমারও চোখে পড়েছে। আমায় ব্যাথা দিয়েছে। এত নেগেটিভ কমেন্ট কোয়েল মল্লিকের বিষয়ে আমাদের পড়তে বা দেখতে, বা শুনতে ভালো লাগছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তিনি কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন। ঈশ্বর তাঁকে সবটা দিয়েছেন। তাঁর নতুন করে জীবনের থেকে পাওয়ার কিছুই নেই। বরং এটা বলতে পারি যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁকে ভালোবাসা, ভরসা, শ্রদ্ধা বিশ্বাসে ভরিয়ে দিয়েছেন, সেই সাধারণ মানুষের চাল, ডাল, চাকরি যাঁরা চুরি করলেন তিনি তাঁদের কেন প্রতিনিধি হলেন? কী এমন দায়ে পড়ল? যে কারণে তাঁর এত কষ্ট করে করা সুনাম নিজেই সেটা ঝাপসা করার চেষ্টায় কেন গেলেন? সেটা আমাকে ব্যাথা দিয়েছে। আমি তাঁর সম্বন্ধে কোনও নেগেটিভ কথা বলতে চাই না। কিন্তু এটাই বলবো যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের এত বড় ক্ষতি করছেন, তাঁদের পক্ষে যদি কোয়েল মল্লিক না যেতেন বা কোথাও তিনি না যেতেন, নিজের যে আভিজাত্য বা সৌন্দর্য্য, নিজের যে ব্যবহার সেটাকে নিয়ে থাকতেন তাহলে কোনও মানুষ তাহলে সাধারণ মানুষ এই ভাবে দুঃখ প্রকাশ করতেন না। কোয়েল মল্লিকে যে ‘চটিচাটা’ শব্দটা বলা হচ্ছে, এটা আমার দেখতে খারাপ লাগছে। আমি জানি না কোয়েল শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেবেন। তৃণমূলে পাঁক তাঁর গায়ে মাখাটা কি তাঁর যোগ্যতা? মনে হয় না। কিন্তু প্রতিটা মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তাঁরা আলোয় থাকবেন, না আলোছায়ায় থাকবেন না অন্ধকারে থাকবেন? তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা। এমনটা না হলে বোধ ভালো হত। বাকিটা তাঁর ব্যাপার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *