Petrol-Diesel Price in Kolkata। কলকাতায় আজ পেট্রোল-ডিজেলের রেট কত?

Spread the love

ইরান সহ পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধ। এর জেরে হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল। এই আবহে ভারতেও কি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ছে? কারণ ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ৫.৪১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৮.২৮ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডাব্লুটিআইও ৪.৮১% বেড়ে ৭১.৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এইর মাঝে ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি আজ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপডেট করেছে। তবে আপাতত ভারতীয়দের জন্য স্বস্তির বিষয় হল, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও বড়সড় পরিবর্তন আসেনি। দিল্লির ইন্ডিয়ান অয়েল পাম্পে পেট্রোলের খুচরা দাম আজ প্রতি লিটারে ৯৪.৭৭ টাকা। কলকাতায় তা ১০৫.৪৫ টাকা। এদিকে কলকাতায় লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ৯২.০২ টাকা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ থেকে ১২০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে। এই আবহে তখন ভারতে তেলের দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত অনেকেই।

বর্তমানে ভারত তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে। ফলে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বাড়বে। এর জেরে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটতে। একইসঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পর নির্দিষ্ট সীমার পর পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবে। কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালী স্বল্পমেয়াদে বন্ধ থাকলে ভারতের ওপর তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ জ্বালানির চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ আপাতত ভারতের কাছে রয়েছে। বর্তমানে বেশ কয়েকদিনের তেল মজুদ রয়েছে ভারতে।

এদিকে উত্তেজনা আরও বাড়লে ভারত জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে রাশিয়ার তেল ক্রয় বাড়িয়ে আমদানির উৎস পরিবর্তন করতে পারে ভারত। এছাড়া ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল ও আফ্রিকার মতো দেশ থেকেও তেল কিনতে পারে ভারত। এর আগে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৭.৫০ ডলার রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল। সে সময় ডলার প্রতি ভারতীয় মুদ্রার দাম ছিল ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। এমনকী ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০-১৩০ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই সময়, ভরতীয় মুদ্রার দাম ছিল ডলার প্রতি ৭৯ থেকে ৮০ টাকা। বর্তমানে, এক ডলারের দাম ৯২ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *