টানা আটদিন ধরে দেশের অন্যতম বড় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ব্যাপক অপারেশনাল বিপর্যয়ের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, ইন্ডিগোর শীতকালীন ফ্লাইট সূচি কমিয়ে সেই স্লটগুলি অন্য এয়ারলাইন্সকে দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, দৈনিক অন্তত ৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১১৫টি উড়ান ইন্ডিগোর থেকে কেড়ে নেওয়া হতে পারে। অন্যান্য যে বিমান সংস্থাগুলির পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে, তাদের মধ্যে এই উড়ানগুলি ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।
ইন্ডিগোর একের পর এক বিমান বাতিলের কারণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিপুল ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। এরপরই জানানো হয়, মঙ্গলবার অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এয়ারলাইন্সগুলির শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ বৈঠকে বসবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, ইন্ডিগোর কেড়ে নেওয়া উড়ান কোন সংস্থাগুলিকে দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, ৫ শতাংশ অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ১১৫টি উড়ান আপাতত হারাতে চলেছে ইন্ডিগো। কয়েকদিন পরে আরও ৫ শতাংশ উড়ান কেড়ে নেওয়া হবে ইন্ডিগোর থেকে। গত সাতদিন ধরে বিমানের যাত্রীরা যেভাবে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন সেটা যেন আর না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে কেন্দ্র। উড়ান কেড়ে নেওয়া ছাড়াও ইন্ডিগোর উপর বড়সড় জরিমানা বসানো হতে পারে। শাস্তি পেতে পারেন আধিকারিকরাও। বিমান ভাড়ার ক্যাপ সংক্রান্ত আপডেট এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের উদ্বেগও বৈঠকে তোলা হবে। সোমবার রাতের এক বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানায়, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাতিল হওয়া টিকিটের জন্য মোট ৮২৭ কোটি টাকা রিফান্ড দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিগো জানায়, বিমান ভাড়ার ক্যাপ সংক্রান্ত আপডেট এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের উদ্বেগও বৈঠকে তোলা হবে। সোমবার রাতের এক বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানায়, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাতিল হওয়া টিকিটের জন্য মোট ৮২৭ কোটি টাকা রিফান্ড দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাজীব ভবনে অনুষ্ঠিত অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের মিটিংয়ে ইন্ডিগোর সামগ্রিক অপারেশন, অভিযোগ, যাত্রী পরিষেবা এবং রিফান্ডের গতিও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হবে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, সোমবার রাতেই একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ মিটিং হয়েছে। তিনি জানান, সিনিয়র অফিসারদের বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে যাতে প্রতিটি পরিষেবা খতিয়ে দেখা যায় এবং যাত্রীদের করা অভিযোগসহ সমস্ত ফাঁকফোকর দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। সোমবারই রাজ্যসভায় রামমোহন নাইডু জানান, গত সাতদিন ধরে যাত্রীরা যেভাবে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর কথায়, ‘ইন্ডিগোর উচিত ছিল সঠিক ব্যবস্থাপনা রাখা। আমরা এই পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নিচ্ছি না। নির্দেশিকা অমান্য হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সব বিমান সংস্থার সামনে আমরা একটি উদাহরণ স্থাপন করব।’

প্রসঙ্গত, পরিষেবার দিক থেকে ভারতে অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো। প্রতিদিন উড়ানের সংখ্যা ২,২০০টি। সেই পরিষেবাই সম্পূর্ণরূপে মুখ থুবড়ে পড়েছে গত সাতদিন ধরে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও যাত্রী ভোগান্তি বহাল। অষ্টম দিন অর্থাৎ মঙ্গলবারেও প্রায় আড়াইশোটি ইন্ডিগোর উড়ান বাতিল হয়েছে। তবে চলতি সমস্যার জন্য ইন্ডিগোর তরফে যাত্রীদের কাছে ‘দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা’ করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, একাধিক পরিস্থিতি একসঙ্গে জট পাকিয়ে এমন এক ‘অপ্রত্যাশিত ও দুর্ভাগ্যজনক বিপর্যয়’ তৈরি হয়েছে। তারা আরও সময় চেয়েছে বিস্তারিত রুট-কজ অ্যানালিসিস জমা দিতে। বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মোট ৫,৮৬,৭০৫টি পিএনআর বাতিল হয়েছে।