যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর। আরেক গণমাধ্যম এক্সিওসের খবরে বলা হয়, তেহরানে হামলার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
আবারও শোনা যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের গুঞ্জন। সিএনএন-কে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চললেও যেকোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।আরেক গণমাধ্যম এক্সিওস বলছে, ট্রাম্পের কাছে উচ্চপর্যায়ের সামরিক ব্রিফিংয়ে ইরানে নতুন করে হামলার তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম পরিকল্পনায় রয়েছে স্বল্পস্থায়ী ও শক্তিশালী বিমান হামলা। দ্বিতীয় বিকল্প হরমুজ প্রণালীর আংশিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা। তৃতীয় বিকল্প ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখলে বিশেষ বাহিনীর অভিযান।
এরমধ্যেই ইরান চুক্তি করতে মরিয়া বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তেহরানের অনেক নেতা ও সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী নেই। প্রায় সব ধরনের সামরিক সরঞ্জামই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের ড্রোন কারখানার প্রায় ৮২ শতাংশ অচল হয়ে গেছে, এবং ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে ‘
একইসঙ্গে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ফের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। এর মধ্যেই একদিনে তেল আবিবে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টন সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর তথ্যও দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষা করা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের এখন আর কোনো আস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিজ নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে ওই দেশগুলোতে অবস্থানরত আরব আমিরাতের নাগরিকদের অবিলম্বে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।