আগামী ৪০-৫০ বছরের মধ্যে গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এমনই দাবি করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট। তাঁর মতে, ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়ে বড় ভুল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি, তিনি তুলেছেন চিন এবং পাকিস্তানের প্রসঙ্গও।
মার্কিন শুল্কনীতি
শুক্রবার এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৫-এ যোগ দিয়েছিলেন টনি অ্যাবট। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক। তবে আমার মনে হয় সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে তিনি যেরকম আচরণ করছেন, তা ঠিক নয়। শাস্তি হিসাবে ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়ে তিনি বড় ভুল করেছেন। অনেক দেশ আছে যারা বর্তমানে ঠিক কাজ করছে না। বিশেষ করে একই কাজ করে চিনও কিন্তু কোন শাস্তি পায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এই শুল্কযুদ্ধ একটি বড় বিপর্যয়। তবে গণতন্ত্রের সঙ্গে ভারতের যে মৌলিক স্বার্থ ও মূল্যবোধ রয়েছে, তা বিবেচনা নিলে আমি মনে করি এটি একটি সাময়িক ধাক্কা, আশা করি এটি খুব দ্রুত কেটে যাবে।’ নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় ভারতের বিপরীতে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়া ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ভুল। তবে গত ২০ বছর ধরে মার্কিনিরা ‘খুবই বিচক্ষণতার সঙ্গে এটি কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে।’
পাকিস্তানের সমালোচনা
পাকিস্তানের শহবাজ শরিফ সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের সমালোচনা করে অ্যাবট বলেন, ‘পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের সঙ্গে দৃঢ় বন্ধুত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে যে তারা (ওসামা) বিন লাদেনকে এক দশকের বেশিরভাগ সময় ধরে তাকে থাকতে দিয়েছে। পাকিস্তানেও ভালো মানুষ আছে, কিন্তু দেশটিতে এখনও একটি শক্তিশালী ইসলামপন্থি ধারার সামরিক সমাজের নেতৃত্ব রয়েছে। অপরদিকে ভারত সম্পূর্ণ আলাদা। আমি বলছি না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করা উচিত নয়। তবে তাদের জানা দরকার যে তাদের আরও ভালো বন্ধু কোথায় আছে।’

ভারতের সঙ্গে চিনের তুলনা
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিনের প্রতিপক্ষ হল ভারত। এটি এখন সবচেয়ে জনবহুল দেশ। আপনি ভারতের যে কোন শহরে যান… সেখানে ব্যাপক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে-নতুন বিমানবন্দর হচ্ছে। চিনের একমাত্র বিকল্প হতে পারে ভারত। একবিংশ শতাব্দী যেমন চিনের, তেমনই ভারতেরও।’ তিনি আরও বলেন, ভারতের তিনটি বড় সুবিধা রয়েছে – গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ইংরেজি ভাষা। তাঁর কথায়, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি বলব ভারত একটি গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আগামী ৪০-৫০ বছরের মধ্যে একটি মুক্ত বিশ্বের নেতা হবেন…।’