ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্ক কি টানাপোড়েনে পড়েছে?

Spread the love

ইরানে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে দেয়ার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

 প্রায় ৪০ দিনের সংঘাত, কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি এবং সর্বশেষ তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর নেতানিয়াহুর কৌশলগত হিসাব-নিকাশ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্যের জেরে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক ফোনালাপে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ভবন উড়িয়ে দেয়া বন্ধ করতে’ বলেছেন।
 
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে নিয়মিত ফোনালাপ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি উত্তপ্ত ও বৈরি হয়ে উঠেছে।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নেতানিয়াহু “সবকিছুতেই বোমা হামলা করতে চান।”
এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্প ক্রমেই নেতানিয়াহুর ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের প্রস্তাবে বিরক্ত হয়ে উঠছেন।
 
ট্রাম্পের মন্তব্য শুনেছেন এমন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের কাছে হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন যে নেতানিয়াহু ‘সবাইকে বোমা মেরে ওড়াতে চান’।
 
ওই কর্মকর্তা বলেন, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেন কেন কোনো স্থাপনায় হামলা প্রয়োজন, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা এটি করতে সক্ষম এবং কখন তা করা উচিত। প্রেসিডেন্ট সেগুলো শোনেন। সাধারণত ফোনালাপগুলো একই ধরনের হয়।’
 
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরেকটি ফোনালাপে ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি আশঙ্কা করেন, এর ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের সঙ্গে তুলনা করা হতে পারে, যিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার সময় ব্যর্থতার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমালোচনা বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে এক ফোনালাপে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘সম্পূর্ণ পাগল’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
 
চলতি সপ্তাহে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতে ইসরাইলি হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেছিলেন যে তার কোনো বিচারবোধ নেই।
 
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও সামরিক কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্ক আগের তুলনায় বেশি টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *