একটা সময় চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুকে নিয়ে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল মহম্মদ ইউনুস জমানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠে। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গেরও বহু মহল। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। এরই মাঝে এবার দুটি মামলায় জামিনে মুক্ত হলেন চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু। তবে তাঁর জেলমুক্তি এখনই হচ্ছে না।
হত্যাচেষ্টা এবং ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর ২৬ জুলাই শুনানি শেষে আদালত আজ ২ আগস্ট রায়ের জন্য দিন রাখে। এদিন, সেই রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেয় আদালত। চিন্ময়ের পক্ষের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেছেন, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মূলত ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত হয়েছে। এমনই তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো। এই ২ মামলায় চিন্ময় জামিন পেলেও বাকি দুই মামলায় জামিনের প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে তখন বাংলাদেশে সবেমাত্র শেখ হাসিনার শাসনকালের পতন হয়েছে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের জেরে। সেই বছরের নভেম্বর মাসে জাতীয় পতাকার অবমাননার দায়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয় চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে। সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু ছাড়াও বাংলাদেশে ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা হয়। মামলা করেন বিএনপির ফিরোজ খান ,পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই বিএনপিই বর্তমানে বাংলাদেশের শাসকপক্ষ। এদিকে, এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে বহু মামলায় বাংলাদেশের জেলে বন্দি সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ।
