দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশি অভিযানে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। তৃণমূল কংগ্রেসের এক বুথ সভাপতির বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং বোমা উদ্ধার হয়েছে। এরপরই ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ধৃতের নাম আলাউদ্দিন তরফদার। তিনি ক্যানিংয়ের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর অঙ্গাদবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার তৃণমূল বুথ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর রবিবার গভীর রাতে আলাউদ্দিন তরফদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় বাড়ি থেকে একটি দেশি লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র, একটি দেশি ছোট পাইপগান, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি তাজা বোমা উদ্ধার হয়। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পরই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক কী উদ্দেশ্যে বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এগুলি কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, অথবা অন্য কোনও চক্রের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তকারীরা খোঁজখবর শুরু করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এসেছে, কারা সরবরাহ করেছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না।
সোমবার ধৃত আলাউদ্দিন তরফদারকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে পুলিশ। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অস্ত্র মজুতের নেপথ্যের কারণ এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি ধৃতের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের সূত্র এবং সাম্প্রতিক গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।