হাতে আর এক মাসও সময় বাকি নেই ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের, কিন্তু এখনও কাটছে না এসআইআর প্রক্রিয়ার জট। গত সোমবার থেকে ফর্ম ৬ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এক ব্যক্তি ব্যাগ ভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে ঢুকেছে ইসি অফিসে, এই অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতরের সামনে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বুধবারও দুপুরে সিইও অফিস ঘিরে তৃণমূলপন্থী বিএলও এবং এসইউসিআই কর্মীদের জোড়া বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্ট্র্যান্ড রোড। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুলিশ ওই এলাকায় ১৬৩ ধারার (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) পরিধি এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভ ও যানজট
গত সোমবার থেকে ফর্ম ৬ নিয়ে উত্তাল অবস্থা বঙ্গ রাজনীতিতে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ বিজেপি আর কমিশন মিলে ব্যাকডোর পলিসিতে ভিন রাজ্যের ভোটার ঢুকিয়ে ভোট লুটের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে প্রচুর ফর্ম ৬ সিইও দফতরে জমা করা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে হেয়ার স্টিট্র থানায়। অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। এরমধ্যেই বুধবার দুপুরে সিইও মনোজ আগরওয়াল যখন দফতরে প্রবেশ করছিলেন, তখনই তাঁর গাড়ি ঘিরে স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা। অন্যদিকে, এদিন দুপুরে এসইউসিআই সমর্থকরাও সিইও অফিসের সামনে জমায়েত করেন। এই দ্বিমুখী বিক্ষোভের জেরে স্ট্র্যান্ড রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। থমকে যায় যান চলাচল। বাবুঘাট থেকে হাওড়াগামী বাস চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ায় নাজেহাল হন সাধারণ যাত্রীরা। অনেককেই হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।
১৬৩ ধারার পরিধি বৃদ্ধি
মঙ্গলবার রাতভর উত্তেজনার পর বুধবার সকালেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি)। সিইও অফিসের আশপাশে ১৬৩ (প্রাক্তন ১৪৪) ধারার পরিধি বিস্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কেবল সিইও অফিসের সামনেই নয়, বরং স্ট্র্যান্ড রোডের রাস্তা এবং দু’পাশের ফুটপাত-সহ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্তও। অর্থাৎ, এই এলাকায় কোনও প্রকার জমায়েত বা মিছিল নিষিদ্ধ। আগে কেবল সিইও অফিসের সামনেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল।

নেপথ্যে ‘ফর্ম-৬’ বিতর্ক
এই অশান্তির সূত্রপাত মঙ্গলবার। মঙ্গলবার বেলার দিকে আচমকাই স্ট্র্যান্ড রোডে নতুন সিইও দফতরের সামনে হাজির হন তৃণমূলপন্থী বেশ কয়েক জন বিএলও। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ (যে ফর্ম জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার আবেদন করা যায়) নিয়ে সিইও অফিসে জমা দিতে এসেছেন কয়েক জন। সেই অভিযোগকে সামনে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএলও-রা। সিইও অফিসে ফর্ম ৬ জমা করার অভিযোগকে ঘিরে যখন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎই সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি কর্মীরা। এরপরেই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের পরিস্থিতি তৈরি হয়।পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। সময় যত গড়ায় উত্তেজনা ততই বাড়তে থাকে। রাত অবধি উত্তেজনা ছিল ওই এলাকায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বুধবার ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বর্তমানে সিইও দফতরের সামনে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।