রাহুলের মৃত্যু বিতর্কে বন্ধ ‘চিরসখা’র শ্যুটিং? ‘কল টাইম এখনও পাইনি’

Spread the love

রবিবার তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে শ্যুটিং ফ্লোরের নিরাপত্তার অভাব, অব্যবস্থা, গাফিলতি-সহ নানা কথা উঠে আসছে বারবার। তার জেরে অনেকেই দাবি করেন, এই প্রযোজনা সংস্থার অধীনে যে সমস্ত মেগা হচ্ছে তার শ্যুটিং যাতে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থাকে ব্ল্যাক লিস্টেড করার দাবিও তোলা হয়।

এরপরই প্রকাশ্যে আসে মুভিটন স্টুডিয়োর বর্তমান চিত্র। একেবারে ফাঁকা স্টুডিয়ো। তবে কি এই ঘটনার জেরেই বন্ধ ‘চিরসখা’র শ্যুটিংও? এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন পর্দার ‘স্বতন্ত্র’ সুদীপ মুখোপাধ্যায়।

আজকাল ডট ইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুদীপ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘পাশাপাশি ফ্লোরে শ্যুটিং হয় ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ এবং ‘চিরসখা’। কারণ একই প্রযোজনা সংস্থারই দু’টি ধারাবাহিক। যেদিন রাহুল আউটডোরে বেরোচ্ছে, সেদিনও কথা-আড্ডা হল। তারপর শুনি… কী বলব জানি না। সত্যিটা কী, আমি জানি না। তবে সত্যিটা সামনে আসুক আমিও চাই। এখন তো চারপাশের সবাই ফেলুদা-ব্যোমকেশ হয়ে গিয়েছে।’

তিনি শ্যুটিং বন্ধ প্রসঙ্গে বলেন ‘তবে হ্যাঁ, এটা সত্যিই যে ‘চিরসখা’-র শ্যুটিং বন্ধ আছে। আমরা কল টাইম এখনও পাইনি। আসলে এই আবহে শ্যুটিং হবেই বা কীভাবে? তবে এটুকু বলতে পারি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আবার শুরু হতে পারে এই ধারাবাহিকের শ্যুটিং।’

কিন্তু ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র কি এরপরও চলবে? এই প্রসঙ্গেও সুদীপ মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ’আমি জানি না। কিন্তু আমাদের ধারাবাহিকে তো রাহুল ছিল না। তাই আমার বিশ্বাস, ‘চিরসখা’-র কাজ বন্ধ হবে না।’

এরপর অভিনেতা রাহুলের ছেলের প্রসঙ্গও টানেন। তাঁর কথায়, ‘ওর ছেলে সহজের মুখটা চোখে ভেসে উঠছে… কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু দেখুন, কাজ তো করতে হবে। আমরা তো একপ্রকার দিনমজুর। রোজ কাজ না করলে আমাদের চলবে কীভাবে? আর একদিনের শ্যুটিং বন্ধ থাকলে ক্ষতিটা অনেকের, সার্বিকভাবে।’

শেষে সুদীপ বলেন, ‘দক্ষিণী ছবি ইন্ডাস্ট্রিতে নিশ্চয়ই শ্যুটিং সেটে প্রচুর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে অভিনেতা-শিল্পীদের জন্য। তা সেখানে কি কোনওদিন দুর্ঘটনা ঘটেনি? এটা সম্ভব? আরে, দুর্ঘটনা তো এক মুহূর্তের ব্যাপার। তাছাড়া, কেউ কি চাইবে তাঁর নিজের প্রোডাকশনের ক্ষতি হোক?’

তালসারির সমুদ্রে শ্যুট করতে গিয়ে জলে ডুবে যান অভিনেতা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি নাকি প্রায় ১ ঘণ্টা জলের নীচে ছিলেন। ফলে বালি ঢুকে তাঁর ফুসফুস আকারে দ্বিগুন হয়ে যায়। তাছাড়া তাঁর খাদ্যনালীতেও নোনাজল পাওয়া গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *