দিল্লিতে থেকে যাবতীয় ভিসা পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের হাইকমিশন। সঙ্গে সেখানে বন্ধ রয়েছে বাকি কনস্যুলার পরিষেবাও। এর পাশাপাশি এবার শিলিগুড়ি এবং আগরতলা থেকেও ভিসা প্রদান পরিষেবা বন্ধ করল বাংলাদেশ। আগরতলা এবং শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভর জেরেই তারা এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে কলকাতাতেও বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছিল দীপু দাসের হত্যার প্রতিবাদে। সেখানে ইউনুসের ছবিতে জুতোর মালাও পরানো হয়েছে। উঠেছে বাংলাদেশ বিরোধী স্লোগান।
গত ২০ ডিসেম্বর রাতে গুটিকয়েক মানুষ পোস্টার ব্যানার নিয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। বাংলাদেশি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সেই বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছিল। এরপর সরকারি ভাবেও দিল্লির তরফ থেকে ঢাকাকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল দীপু হত্যা নিয়ে। যা নিয়ে বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন দিল্লি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের কথা তুলে পালটা দিল্লির ওপরে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এদিকে বেমালুম চট্টগ্রাম, রাজশাহীর মতো জায়গায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ওপর হামলার ঘটনা ভুলে যান তিনি।
এদিকে ২১ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৌহিদ বলেন, ‘দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনের সামনে হিন্দু কট্টরপন্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সেখানে আসেন। তবে একটা সুরক্ষিত জায়গায় এভাবে মানুষ আসেন কীভাবে? তার মানে তাদেরকে আসতে দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে হাইকমিশনের অনেক আগেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। কোনও স্মারকলিপি জমা দেওয়ার থাকলে দুই জনকে অনুমতি দেওয়া হয়। তারা গিয়ে হাইকমিশনে তা জমা করে আসে। এটাই রীতি। সর্বত্র তাই মানা হয়। আমাদের এখানেই সেই রীতি মানা হয়।’
মুখে তৌহিদ এই কথা বললেও হাদির মৃত্যুর পর থেকে তাঁর বর্ণিত সেই ‘রীতি’ বাংলাদেশে দেখা যায়নি। ভারতীয় হাইকমিশনের ‘এক একটা ইট খুলে’ নেওয়ার হুমকি থেকে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পুলিশ অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছে। রাজশাহী এবং খুলনাতেও ভারতীয় হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এই আবহে বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা কোন ‘রীতি’র কথা বললেন, তা স্পষ্ট নয়। এরই সঙ্গে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিকে ভারতের তরফ থেকে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ভারতকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা প্রদানকারী সেন্টার বন্ধ করতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশি কট্টরপন্থী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই সেই দেশে চরম ভারত বিরোধিতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। হাদির হত্যার ঘটনায় ভারতের ‘র’-এর দিকে আঙুল তুলেছেন হাদির বোন মাহফুজা। এদিকে বাংলাদেশে দাবি করা হয়, ফয়সাল করিম না আওয়ী লীগের প্রাক্তন নেতা। এদিকে কায়সার ভারতে পালিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। এই আবহে হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ভারতের হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা পর্যন্ত করে কট্টরপন্থীরা। উত্তরপূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন হাসনাত আবদুল্লাহর মতো ‘জুলাই বিপ্লবী নেতা’। এই সবের মাঝে অবশ্য বাংলাদেশি পুলিশ বলেছে, হাদির হত্যাকারী ফয়সাল করিম বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে গেছেন কি না, তা নিয়ে তাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি বলেন, ‘অনেক সময়ই তন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়।’ অর্থাৎ, পুলিশের দাবি, তাদের বিভ্রান্ত করতে ভুয়ো দাবি করা হয়ে থাকতে পারে যে ফয়সাল ভারতে।