ধুরন্ধর ২ সিনেমা দেখার পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে— হামজা নামে কি সত্যিই কোনো ভারতীয় গুপ্তচর ছিল? নাকি এই গল্প পুরোপুরি কাল্পনিক? সিনেমার শুরুতেই পরিচালক আদিত্য ধর একটি ডিসক্লেমার দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে—এই গল্প ফিকশন, তবে কিছু বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি। সিনেমার অনেক চরিত্র বাস্তবের মানুষদের উপর ভিত্তি করে তৈরি, এমনকী তাদের নাম এবং চেহারার সঙ্গে সিনেমার চরিত্রেরও মিল রাখা হয়েছে।
হামজা বলে সত্যিই কি কেউ ছিল?
সিনেমায় হামজা নামের এক ভারতীয় গুপ্তচরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। যে লিয়ারিতে রহেমান ডাকাত এবং উজের বালোচ-এর গ্যাংয়ে ঢুকে ভারতের শত্রুদের বিরুদ্ধে কাজ করে।
সাংবাদিক অনিরুদ্ধ মিত্র সম্প্রতি রণবীর এলাহাবাদিয়া-এর পডকাস্টে কথা বলার সময় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—বাস্তবেও কি এমন কোনো ব্যক্তি ছিল, যে উজের বালোচের গ্যাংয়ে ঢুকে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছিল?
অনিরুদ্ধ জানান, ‘হামজা’ আসলে আসলে কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং একাধিক গোপন অপারেশনের সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। এইসব মানুষরা নিজেদের পরিচয় মুছে দিয়ে শত্রু দেশের গভীরে প্রবেশ করেছিল। কেউ ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে, কেউ আবার অপরাধ জগতের অংশ হয়ে। তাদের কাজ ছিল তথ্য সংগ্রহ, ভেতর থেকে নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং প্রয়োজনে নিঃশব্দে অপারেশন চালানো।

পাকিস্তানের জেলে এক ভারতীয় গুপ্তচর?
অনিরুদ্ধ আরও দাবি করেন, একজন ভারতীয় গুপ্তচর বর্তমানে পাকিস্তানের জেলে বন্দি আছেন। এই গল্প খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি জানান, সেই ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের সাংগলি থেকে ছিলেন এবং আগে নৌবাহিনীতে কাজ করতেন। ২০০১ সালের ইন্ডিয়ান পার্লােন্ট অ্যাটাকের পর তিনি নিজে থেকেই দেশের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সাড়া না পেয়ে নিজেই মিশনে বেরিয়ে পড়েন।
গ্যাং-এ প্রবেশ
তিনি প্রথমে ইরানে গিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেন—নৌকা ভাড়া এবং জলপথ পরিবহন। ধীরে ধীরে যোগাযোগ বাড়িয়ে তিনি একসময় উজের বালোচেক গ্যাংয়ে ঢুকে পড়েন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তিনি উজের বালোচের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন—পাকিস্তানের গোপন তথ্যের বিনিময়ে ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহ করবেন। আইএসআই এবং পাকিস্তানের কিছু রাজনীতিবিদের সঙ্গে কাজ করছিলেন, তাই তাঁর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল।