ধারাবাহিক জগতের সুপরিচিত চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল, যাকে সকলে চিনতেন ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকের স্রষ্টা হিসাবে। যদিও এই একটি ধারাবাহিক নয়, ঐতিহাসিক গল্পের আঙ্গিকে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘দেবী চৌধুরানী’ সহ একাধিক ধারাবাহিকের গল্প রচনা করেছেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই কলম দিয়ে আর কোনও গল্প রচনা করা হবে না, কারণ চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন জনপ্রিয় এই চিত্রনাট্যকার।
মাত্র ৫২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, জগন্নাথ দর্শন সেরে পুরি থেকে ফিরছিলেন বাড়ির পথে। মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কলকাতায় ফিরেই তাঁকে তড়িঘড়ি ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে, কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। চিরকালের জন্য সবাইকে রেখে চলে গেলেন তিনি।
বাংলা ধারাবাহিকের সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা খুব ভালোভাবেই চেনেন এই চিত্রনাট্যকারকে। টেলিভিশন জগতে যতবার পৌরাণিক অথবা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকের প্রসঙ্গ আসবে, ততবার স্মরণ করা হবে ঋতম ঘোষালের নাম।
তবে চিরকাল হাসিখুশি থাকা এই মানুষটি বিগত বেশ কিছু বছর ধরে একাধিক শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। বহুদিন ধরেই স্পন্ডিলাইটিস থেকে শুরু করে আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন তিনি। সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে গিয়েছিল যে হাতের ব্যথা কমানোর জন্য নিয়মিত ইনজেকশন নিতে হত তাঁকে।
কিন্তু সমস্ত শারীরিক সমস্যাকে অগ্রাহ্য করে তিনি লিখে গিয়েছেন একের পর এক ধারাবাহিকের গল্প। তবে তাঁর মৃত্যুর আগে প্রভু জগন্নাথ দেবের দর্শন করার এই সৌভাগ্যকে অনেকেই বিশাল বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

ঋতম ঘোষালের এই অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা টেলিপাড়া। অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সব্যসাচী চৌধুরী, ধারাবাহিক জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতমের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।