Sergio Gor meets Ajit Doval। ম্যাথু ভ্যানডাইক গ্রেফতার হওয়ার পরেই ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন দূত

Spread the love

জঙ্গি যোগ থাকার অভিযোগে মার্কিনি ম্যাথু ভ্যানডাইক গ্রেফতার হয়েছেন ভারতে। আর তার পরপরই ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর দেখা করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে উক্ত বৈঠক ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বৈঠকের পরে সার্জিও গোর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাজনিত এবং ভূরাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই সঙ্গে ভারত-মার্কিন কৌশলগত সহযোগিতার কথা বলেন সার্জিও গোর। তাঁর এই বার্তায় ‘ভূরাজনৈতিক ইস্যু’র উল্লেখ থাকলেও সরাসরি ইরানের কথা বলা হয়নি। আর তাই জল্পনা তৈরি হয়েছে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে।

এদিকে ইরান নিয়েও যদি সার্জিও গোর এবং অজিত ডোভালের কথা হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আমেরিকা এবং মার্কিন মিত্ররা যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ বের করতে পারছে না, সেখানে ভারত অনায়াসে ট্যাঙ্কার বের করিয়ে আনছে। এদিকে ট্রাম্প চাইছেন, আমেরিকার মিত্র দেশরা মিলে জোট গড়ে হরমুজ প্রণালীতে ইরানকে প্রতিহত করুক। তবে ভারত এর আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, আন্তর্জাতিক কোনও এমন জোটে ভারত যোগ দেবে না।

এদিকে ম্যাথু ভ্যানডাইক নিয়ে এর আগে আমেরিকার দূতবাস কিছু বলতে চায়নি। উল্লেখ্য, কলকাতা থেকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছিল মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিজোরাম দিয়ে মায়ানমার গিয়ে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের সে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং ইউরোপ থেকে বেআইনি ভাবে ড্রোন আমদানি করেছিল। এই নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা হলে আপাতত ‘নীরব’ তারা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাথুর গ্রেফতারির বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন দূতাবাসের কোনও আধিকারিক। ম্যাথু ভ্যানডাইকের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র শুধুমাত্র বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির (ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ মামলায় ম্যাথু ভ্যানডাইকের গ্রেফতারি) বিষয়ে আমরা অবগত। তবে গোপনীয়তা রক্ষার কারণে আমরা এই মার্কিন নাগরিক সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’

উল্লেখ্য, নিজেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যানালিস্ট হিসেবে দাবি করে ম্যাথু। এছাড়াও সে একাধারে ‘যুদ্ধের রিপোর্টার’, ডকুমেন্টারি পরিচালকও বটে। একাধিক দেশে সে ‘ফ্রিলান্সিং’ করে। এই ম্যাথু আদতে ‘ভাড়াটে স্বাধীনতাকামী’। লিবিয়া থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেনে ‘কাজ’ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিজেই সে দাবি করেছে, অন্য দেশে তার ‘কোভার্ট অপারেশন’ বা গোপন অভিযান চলে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল ম্যাথু। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছিল ম্যাথু। ২০১১ সালে ধরা পড়ে ৬ মাস জেলেও ছিল সে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি মার্সিনারি সংস্থা চালায় ম্যাথু। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এই সংস্থার মাধ্যমে ‘বিদ্রোহীদের’ প্রশিক্ষণ দেয় ম্যাথু। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *