বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান এখন রয়েছেন খবরের শিরোনামে। ‘কেদারনাথ’ যাত্রা শুরু করার আগে তাঁকে একটি হলফনামা জমা দিতে বলা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এমন হচ্ছে? আসলে উত্তরাখণ্ড মন্দির কমিটি, বিশেষ করে এর চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এখন থেকে অ-হিন্দু ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের জন্য হলফনামা জমা দিতে হবে।
কী ধরনের হলফনামা?
হেমন্ত দ্বিবেদী বলছেন যে এই হলফনামায় অ-হিন্দু ভক্তদের লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, তাঁরা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী এবং হিন্দুত্বে বিশ্বাসী। এই নিয়মটি শুধু সারা আলি খানের জন্য নয়, বরং এই পবিত্র তীর্থস্থানগুলিতে আসা সমস্ত অ-হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য।
সারা আলি খানের নাম কেন খবরের শিরোনামে?
সারা আলি খান প্রায়শই কেদারনাথ মন্দিরে যান এবং সেখান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করেন। যেহেতু সারার বাবা সাইফ আলি খান মুসলিম এবং মা অমৃতা সিং হিন্দু, তাই তাঁর ধর্মীয় পরিচয় প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের জন্ম দেয়। মন্দির কমিটি বিশেষভাবে তাই সারা আলি কানের উদাহরণ দিয়ে বলেছে যে, যদি সে তাঁর ভক্তি প্রকাশ করে একটি হলফনামা জমা দেন, তবে তাঁকে পুজো করতে কেউ বাধা দেবে না।

এই নিয়ম কেন করা হয়েছে?
মন্দির কমিটির যুক্তি হলো, পবিত্র স্থান এবং সনাতন ঐতিহ্যের মর্যাদা বজায় রাখার জন্য এই নিয়মটি প্রয়োজনীয়।
বিতর্ক কোথায়?
কিছু মানুষ এটিকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় বলে মনে করেন। তারা প্রশ্ন তুলছেন যে, আদৌ প্রভুর দরবারে প্রবেশের জন্য লিখিত প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত কি না।
এই নিয়ম কি সব তীর্থস্থানের জন্য প্রযোজ্য?
হেমন্ত দ্বিবেদী স্পষ্ট করেছেন যে, এই নিয়ম কেদারনাথ বা বদ্রীনাথে আসা সমস্ত অ-হিন্দু ভক্তদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
কঙ্গনা রানাওয়াতের বক্তব্য
কঙ্গনা রানাওয়াত বলেন যে, যদি কেউ নিজেকে সনাতনপন্থী বলে নিজেকে মনে করেন, তবে তাঁদের সেটি লিখিতভাবে প্রদান করতে ভয় বা দ্বিধা করা উচিত নয়। তিনি বললেন, ‘সবাই সনাতনী…এখানে যে-ই আছে সে-ই সনাতনী…সবাই সনাতনী, সুতরাং সত্য লিখতে ভয় কেন?’