নীতীশকে গদিচ্যুত করার পণ নিয়ে একদা বেঁধেছিলেন পাগড়ি

Spread the love

গতকালই অবসান ঘটেছিল নীতীশ যুগের। আর আজ থেকে বিহারে ‘সম্রাট’ যুগ শুরু হয়ে গেল। এই প্রথম বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হল বিজেপির কোনও নেতা। আজ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন সম্রাট চৌধুরী। সম্রাট চৌধুরীকে পাটনার লোক ভবনে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন। সম্রাট চৌধুরী ছাড়াও বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জেডিইউ নেতা বিজয় চৌধুরী ও বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা জেপি নড্ডা, ভিখুভাই ডালসানিয়া এবং রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতীশ কুমার, এলজেপি (রামবিলাস) পার্টির প্রধান চিরাগ পাসোয়ানও।

সম্রাট চৌধুরীর আসল নাম ছিল রাকেশ কুমার। পরবর্তীকালে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে সম্রাট চৌধুরী রাখেন। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথমবার রাবড়ি দেবীর সরকারে মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর বয়স নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ভারতীয় সংবিধান অনুসারে ২৫ বছরের নীচে কোনও ব্যক্তি মন্ত্রী হতে পারেন না। ২০০০ ও ২০১০ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া এই নেতা দীর্ঘ সময় আরজেডির বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে ২০১৪ সালে তিনি জেডিইউ-তে যোগ দেন এবং জিতন রাম মাঁঝির সরকারের মন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সম্রাট চৌধুরী দলের রাজ্য সভাপতি এবং বিধান পরিষদে বিরোধী দলের নেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নীতীশ সরকারের দুবারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। একদা নীতীশকে গদিচ্যুত করার পণ নিয়ে পাগড়ি পরেছিলেন সম্রাট। ২০২২ সালে নীতীশ কুমার যখন বিজেপি ছেড়ে আরজেডি-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন, তখন সম্রাট প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নীতীশকে কুর্সি থেকে না সরানো পর্যন্ত তিনি মাথায় পাগড়ি বাঁধবেন। তবে পরে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে নীতীশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয় সম্রাটের। নীতীশ এনডিএ-তে ফিরে আসায় অযোধ্যায় গিয়ে রামলালার চরণে সেই পাগড়ি উৎসর্গ করে এসেছিলেন সম্রাট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *