পুরুলিয়া শহরের অলঙ্গিডাঙা হেলথ সেন্টার চত্বরে উদ্ধার হল এক মহিলার অর্ধনগ্ন দেহ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, ওই মহিলাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ঘটনাস্থল অলঙ্গিডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাগোয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তার পেছনের অংশে বহুদিন ধরেই ছড়িয়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ওই জায়গায় প্রায়ই নেশাগ্রস্তদের আড্ডা বসে। চলে মদের আসর। শনিবার সকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পিছনেই আবর্জনার ঢিবির মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায় মহিলার অর্ধনগ্ন দেহ। প্রথমে পথচারীদের নজরে আসে ঘটনাটি, এরপরই খবর যায় পুলিশে।
খবর পেয়ে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার গায়ে একাধিক চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে মৃত্যুর প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মৃতদেহের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগে কখনও ওই মহিলাকে ওই এলাকায় দেখা যায়নি। স্থানীয় এক সবজি বিক্রেতার কথায়, এই মৃত্যুটা স্বাভাবিক নয়। তাঁকে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, রাতের অন্ধকারে অপরাধমূলক কাজের পর দেহটি ফেলে যাওয়া হয়েছে।স্থানীয় কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাস বলেন, মৃতা মহিলা এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা নন। পুলিশ তদন্তে নেমেছে, খুব শিগগিরই মৃত্যুর কারণ ও পরিচয় দুটোই জানা যাবে। পুরুলিয়ার ব্যস্ত শহরের মধ্যেই এমন রহস্যজনক দেহ উদ্ধারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
