পেন্টাগনের রিপোর্টকে তুলোধোনা! নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত চিনের

Spread the love

বিশ্ব রাজনীতি এবং কূটনৈতিক সমীকরণ কী আমূল বদলাতে চলেছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দ্রুত বদলে যাচ্ছে দুনিয়া। ঠিক এই রদবদলের আবহে আচমকা আন্তর্জাতিক মহল সরগরম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট নিয়ে। আর এই রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্কের উন্নতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাঁধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বেজিং।

পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর উত্তেজনা কমিয়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর হওয়া ঠেকাতে চাইছে বেজিং। এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার চিনের বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে, ভারত ও চিনের সম্পর্কের উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেজিংয়ের প্রতিরক্ষা নীতিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় উত্তজনা প্রশমনের সুযোগ নিয়ে চিন ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে কিনা, সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘চিন ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে একটি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত ইস্যুটি ভারত ও চিনের নিজস্ব বিষয় এবং এই বিষয়ে অন্য কোনও দেশের বিচার বা মন্তব্য করার ঘোর বিরোধী আমরা।’

তিনি আরও বলেন, চিন ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল, সুস্থ এবং টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া পেন্টাগনের ওই রিপোর্টে অরুণাচল প্রদেশকে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চিন সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বিরোধপূর্ণ এলাকার সঙ্গে এক কাতারে রাখা হয়েছে। পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চিনা নেতৃত্ব তাদের ‘মূল স্বার্থ’-এর পরিধি সম্প্রসারিত করেছে। এরমধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ চিন সাগরে সার্বভৌমত্ব দাবি, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ এবং অরুণাচল প্রদেশ। ভারত-চিন সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর অবশিষ্ট সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা করে। এই ঘোষণার দু’দিন পর ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সরাসরি ফ্লাইট, ভিসা সহজীকরণ এবং শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক বিনিময়-সহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এলএসি বরাবর উত্তেজনা কমিয়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে এবং ভারত-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর হওয়া ঠেকাতে চাইছে বেজিং। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে ভারত সতর্ক অবস্থানেই থাকবে এবং এই অবিশ্বাস সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে রিপোর্টে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

ভারত-চিন সম্পর্ক

দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনার পর ভারত ও চিনের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় টহলদারি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এবং ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই উন্নয়নকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে নতুন করে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *