রামনগরী অযোধ্যায় দীপোৎসব উদযাপনের আগে বিতর্কে জড়ালেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। দীপাবালিতে ভারতে সবচেয়ে বড় আয়োজন হয় অযোধ্যায়। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের দীপোৎসবে এবার একসঙ্গে জ্বালানো হবে ২৬ লক্ষ মাটির প্রদীপ। আর দীপাবলির আবহে ক্রিসমাসের সঙ্গে তুলনা টানলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তম মুখ্যমন্ত্রী। আর এরপরেই তাঁকে ‘হিন্দু বিরোধী’ বলে কটাক্ষের ঝড় উঠেছে রাজ্যে।
এক সামাবেশে ভাষণের সময়ে অখিলেশ যাদব বলেন, ‘আমি কোনও পরামর্শ দিতে চাই না। তবে আমি ভগবান রামের নামে একটি পরামর্শ দেব। সারা বিশ্বে ক্রিসমাসের সময় একমাস ধরে শহরগুলি আলোয় ঝলমল করে। আমাদেরও শেখা উচিত ওদের থেকে। কেন আমরা প্রদীপ, মোমবাতির জন্য এত টাকা খরচ করব? এসব নিয়ে এত ভাববই বা কেন? সরকার তাহলে কী করবে? এদের সরানো উচিত। আমরা এলে আরও সুন্দর আলো দিয়ে সাজানোর ব্যবস্থা করব।’ অখিলেশের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর নেতারা। বিশ্ব ভিএইচপি-র জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসাল অখিলেশ যাদবের সমালোচনা করে বলেন, ‘শুনুন, উত্তরপ্রদেশের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দীপাবলি উপলক্ষে বড়দিনের প্রশংসা করছেন। প্রদীপ সারি তাঁর হৃদয়কে এতটাই পুড়িয়ে দিয়েছে যে, তিনি ১০০ কোটি হিন্দুকে প্রচার করে বলছেন ‘প্রদীপ এবং মোমবাতির পেছনে টাকা নষ্ট করো না, বড়দিন থেকে শিক্ষা নাও।’ বনসাল, সমাজবদী পার্টি সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে ভারতীয় সংস্কৃতির উপর বিদেশি ঐতিহ্যকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জিহাদি এবং ধর্মান্তরকারী চক্রের তথাকথিত মশীহ, যিনি নিজেকে যাদব বলে দাবি করেন, তিনি হিন্দুদের চেয়ে খ্রিস্টানদের বেশি ভালোবাসেন। তিনি দেশীয়দের চেয়ে বিদেশী উৎসবকে বেশি মহিমান্বিত করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন খ্রিস্টধর্মের অস্তিত্বই ছিল না, তখন থেকেই দীপাবলির আচার-অনুষ্ঠান ঐতিহ্যের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। এখন, হিন্দু সমাজকে খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বলা হচ্ছে! ভগবান রাম এবং ভগবান কৃষ্ণের পবিত্র ভূমিতে, এমন নেতাদের আশ্রয় অবৈধ। অখিলেশের আমলে ধর্মান্তকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাঁর মন্ত্রিসভা অপরাধীদের দ্বারা পূর্ণ ছিল।’ এখানেই না থেমে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-র জাতীয় মুখপাত্র বলেন, ‘অখিলেশ যাদবের কাছে, বিদেশি উৎসব ক্রিসমাস, যা এখনও দুই মাস বাকি, কিন্তু মনে হচ্ছে তাঁর কাছে ক্রিসমাস ইতিমধ্যেই এসে গিয়েছে। কিন্তু মাত্র এক দিন বাকি দীপাবলির এবং আমাদের কুমোর ভাইদের তৈরি প্রদীপ – এইসব ভণ্ডদের বিরক্ত করছে বলে মনে হচ্ছে। একটু লজ্জা করো, টিপু! অযোধ্যার উজ্জ্বলতা এবং হিন্দুদের আনন্দের প্রতি এই ঈর্ষা ঠিক নয়। হয়তো সেই কারণেই মানুষ তাঁদের দলকে সমাজবাদী পার্টি বলে না, বরং অসমজবাদী পার্টি (অসামাজিক দল) বলে ডাকে!মধ্যপ্রদেশের পরিষদীয় মন্ত্রী বিশ্বাস সারংও অখিলেশের সমালোচনা করেছেন। দীপাবলি সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সারং বলেন ‘অখিলেশ নামের একজন ব্যক্তি কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? আমার মনে হয় তাঁকে অ্যান্টনি বা আকবর বলা উচিত। আমি অবাক হয়েছি যে, কেউ দীপাবলিতে পুজো এবং প্রদীপ জ্বালানোর বিরোধিতা করতে পারে, এই দেখেই।’ তিনি অভিযোগ করেন। ‘অখিলেশ যাদব এবং তাঁর পরিবার মনে হচ্ছে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। এটি তদন্ত করা উচিত।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে পরিবার রামভক্তদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, তাঁদের অবশ্যই রামভক্তদের সঙ্গে সমস্যা হবে। অখিলেশের উত্তর দেওয়া উচিত – তিনি কী দীপাবলিতে পুজো করবেন না? গোবর্ধন পুজোর সময় তিনি কি প্রদীপ জ্বালাবেন না?’ অখিলেশ যাদবের মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করে সারং আরও বলেন, ‘মুখে রূপোর চামচ নিয়ে জন্ম নেওয়া অখিলেশ কঠোর পরিশ্রমী প্রজাপতি সম্প্রদায়ের তৈরি প্রদীপের দিকে আঙুল তুলছেন। এটা দীপাবলির সময় প্রতিটি ঘরে আলো আনা কারিগরদের অপমান।’