বাংলাকে দু’হাত উপুড় করে দিচ্ছে কেন্দ্র! ৮২ হাজার কোটির উন্নয়ন প্রকল্পে গতি

Spread the love

Nabanna: পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতা ও উদাসীনতার অন্ধকার অধ্যায় সরিয়ে রেখে এবার উন্নয়নের নয়া সোপানে পা রাখতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। সোম ও মঙ্গলবার- দু’দিনের রাজ্য সফরের শেষলগ্নে নবান্ন সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রামোন্নয়ন, আবাসন, কৃষি ও পরিকাঠামো খাতে একাধিক বড় আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে রাজ্যে রেল, সড়ক, মহাসড়ক, মেট্রো-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত প্রকল্প আটকে ছিল। মোট ৮২,৪৯২ কোটি টাকার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই ৮২,৪৯২ কোটির সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক বাধা দূর করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে এখন থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হবে, যা বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামোকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ‘হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ’- এই তিন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কেন্দ্রের তরফে ঢালাও বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ভিবি-জি রাম জি’তে ৫০ দিনের বাড়তি কাজ‘

বিকশিত ভারত জি রামজি’ কর্মসূচির অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে আমূল বদল আনা হচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুধু কেন্দ্রীয় সরকারই বরাদ্দ করেছে ৮,৫০৮ কোটি টাকা। রাজ্যের অংশ মিলিয়ে এই তহবিলের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২,০৬৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় এখন থেকে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৩০০ টাকা, আধা-দক্ষদের জন্য ৪৫০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ৬০০ টাকা মজুরি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন এল নিনো বা খরা) দেখা দিলে প্রয়োজনে আরও ৫০ দিন অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হবে, যাতে গ্রামীণ মানুষকে কাজের সন্ধানে পরিযায়ী হতে না হয়। ইতিমধ্যে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘১২৫ দিনের কাজের জন্য ইতিমধ্যেই দু’কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডার চিহ্নিত হয়েছেন। আরও যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের কার্ডও অনুমোদনের জন্য নীতিগত সিন্ধান্ত নিতে আধিকারিকদের দায়িত্ব দিয়েছেন শিবরাজজি।’

আবাস যোজনা

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন মিলেছে। বর্ষার কারণে আবাস যোজনার কাঁচা বাড়ির ভেরিফিকেশন বা তালিকা তৈরির সময়সীমা ২০ জুলাই থেকে বাড়িয়ে আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যাতে গরিব মানুষের ঘর পেতে দেরি না হয়, তাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই ১ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন সরাসরি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০ জুলাই পর্যন্ত আবাস যোজনার অধীনে বাড়ি প্রাপকদের তালিকা তৈরির সময় ছিল। তবে বর্ষা এবং অন্যান্য নানা দিক বিবেচনা করে আমাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। ১৫ অগস্ট পর্যন্ত তালিকা তৈরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।’

কৃষি ও উদ্যানপালনে বড় প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার চারটি জেলাতে- দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, বীরভূম এবং পুরুলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য প্রকল্প চালু করেছে। পশ্চিমবঙ্গে কৃষিক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকে। শুভেন্দু অধিকার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে চাষযোগ্য জমির পরীক্ষানিরীক্ষা করা হবে। কোন জেলায় কোন জমির কোন মাটিতে কী ধরনের ফসল উৎপাদন করা যায় তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। সেই জন্য চারটি ট্রেনিং সেন্টার এবং গবেষণাগার তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী।’ মালদহে আম, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদনের জন্য ১০০ কোটি প্রকল্পে অনুমোদন মিলেছে। আলু, পাটের বীজ মূলত ভিন্‌রাজ্য থেকে আমদানি করা হয়। ভবিষ্যতে এ রাজ্যে যাতে আলু, পাটের বীজ উৎপাদন সম্ভব হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে। শিবরাজ সিং চৌহান জানান, পূর্ব ভারতের জন্য বীজ উৎপাদনের হাব হবে পশ্চিমবঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *