২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার ধর্মতলায় সমাবেশ করল বাংলা পক্ষ। ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, তার পাশাপাশি ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) নিয়ে বাংলা পক্ষের সমাবেশ থেকে বার্তা দেওয়া হয়। বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলা পক্ষ ভোটে না থাকলেও, বাংলা পক্ষ বাংলার বিধানসভা ভোটে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাঙালির স্বার্থে লড়াই করা এবং বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় কাজ পাইয়ে দেওয়ার লড়াই চলবে। ২০২৬ সালে বাঙালির শত্রুদের ভোটে ধুলিস্যাৎ করতে ময়দানে থাকবে বাংলা পক্ষ। বাংলায় চাকরি- কাজ- টেন্ডার ও সর্বত্র ৯০ শতাংশ ভূমিপুত্র সংরক্ষণকেই পাখির চোখ করছে বাংলা পক্ষ।’
একইসুরে বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, ‘বাংলা পক্ষর আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এত বড় সমাবেশ করা দেখাল বাংলা পক্ষ। ভোটে লড়া দল না হয়েও বাংলা পক্ষর ডাকে হাজারে-হাজারে বাঙালি ছুটে এল এই সমাবেশে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোক পরিষ্কার বলছি- এই দেওয়াল লিখন পড়ুন। বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক, বাঙালির চাকরি -কাজ-ব্যবসা, বাঙালি রেজিমেন্ট, ভূমিপুত্র প্রার্থী ইত্যাদি জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে আমরা ভোটের ইস্যু করেই ছাড়ব৷’
সেইসঙ্গে বাংলা পক্ষের তরফে রাজনৈতিক দলগুলিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে বাংলায় হিন্দি-উর্দু তোষণ চলবে না৷ বাংলায় রাজনীতি করতে গেলে বাঙালিকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আবার বাংলা পক্ষের তরফে হুংকার দেওয়া হয়েছে যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান জোড়াসাঁকো এবং জামুড়িয়ায় কোনও বহিরাগত বিধায়ক চলবে না। বিবেক গুপ্তা ও হরেরাম সিং বা অন্য কেউ বহিরাগত প্রার্থী হলে তাঁকে হারাতে মাঠে নেমে লড়বে বাংলা পক্ষ।

তারইমধ্যে সমাবেশে দু’জন মহিলা বক্তা শীর্ষ পরিষদ সদস্যা করবী রায় ও জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্যা প্রীতি মিত্রর বক্তব্যে বারবার বাঙালি নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি নারীর ভূমিকা এবং আগামীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বাঙালি হিসেবে নারীদের কী কী ভূমিকা নিতে হবে, সেই কথা উঠে আসে। বাঙালি ছাড়াও রাজবংশী, লেপচা, সাঁওতাল, রাভা ইত্যাদি ভূমিপুত্র জাতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল এই সমাবেশে।