টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি যে কোনও সমস্যা দেখলেই তা নিয়ে সরব হয়। নায়িকাকে যে পষ্ট বক্তা তা তো বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি শ্রীলেখা জড়িয়ে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে। আর তাঁর কাছেই কিনা বিজেপি থেকে গিয়েছিল ভোটে প্রার্থী হওয়ার অফার। তারপর নায়িকা কী করেছিল জানেন?
পডকাস্ট স্টেট আপ উইথ শ্রীতে সম্প্রতি দেখা মিলেছে শ্রীলেখার। সেখানেই নায়িকা এই প্রসঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে, তাঁর কাছে বিজেপির তরফ থেকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য কোনও অফার এসেছিল কিনা? এই প্রশ্ন শুনে শ্রীলেখা বলেন, ‘এটা পুরানো একটা ঘটনা। ওঁদের আমি চিকেন নাগেট আর কফি খাইয়ে বলে দিয়েছিলাম আমি বামপন্থী, আমি পারব না। না হলে আমি তো কোটি টাকা ব্যাঙ্ক করে ফেলতাম।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মেসি কান্ডের পর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার দেখে শ্রীলেখা পোস্ট করেছিলেন, ‘খুব দুশ্চিন্তায় আছি মেসি কান্ডর পর পরের বছর টালিগঞ্জে ভাফোঁটা হবে তো?’

তাড়াও পথ কুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও সরব হয়েছিলেন নায়িকা। সেই সময় শ্রীলেখা তাঁর প্রোফাইলে পোস্ট করেছিলেন, ‘ আমার হাউজিং কমপ্লেক্স আর সুপ্রিম কোর্ট… হাউজিংয়ের লোকজন আমায় নিয়ে পড়েছে আর সুপ্রিম কোর্ট অসহায় কুকুরদের নিয়ে। কোনো সভ্য দেশে এরকম দেখা যায় না। বাচ্চাদের মানিয়ে নিয়ে চলতে শেখা আর তাঁদের ভালোবাসতে শেখার বদলে আমরা শেখাচ্ছি যে, এদের যে কোনো প্রকারে এড়িয়ে চলা। এই দেশের আর এই দেশের মানুষদের এক কী অবস্থা!! রাজনীতিবিদ, বিচারক… এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘নো ডগ নো ভোট’।
আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার কাছে মানুষের চেয়ে কুকুর আগে।’ একটি নিউজেরও স্ক্রিনশট শেয়ার করেন যেখানে লেখা ডেনমার্কে প্রতি ৬-১৬ বছরের বাচ্চাদের সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস করানো হয়, শেখানে হয় পশুদের আদর-যত্ন-ভালোবাসা দেওয়া। আর লেখেন, ‘ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং বিচারকরা এই বিষয়টি যথাযথভাবে লক্ষ্য রাখবেন। এই তারিখটি চিহ্নিত করুন এবং তারপর কয়েক বছর পরে উভয় দেশের পরবর্তী প্রজন্মের বেড়ে ওঠা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করুন… আপনি পার্থক্যটি দেখতে পাবেন। ভারত সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত, বিচার ব্যবস্থার লজ্জা হওয়া উচিত, প্রতিটা মানুষের লজ্জা হওয়া উচিত।’