NCP Leader Shot in Bangladesh। হাদির পর এবার বাংলাদেশে মাথায় গুলি করা হল এনসিপি নেতাকে

Spread the love

এবার এনসিপির এক নেতার মাথায় গুলি করা হল বাংলাদেশে। ঘটনাটি ঘটেছে খুলনায়। গুলিবিদ্ধ নেতার নাম মোতালেব শিকদার। এই মোালেব এনসিপির খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং দলের শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক। এই আবহে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা মিতু এবং সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গিয়েছে, মোতালেবের চিকিৎসা চলছে। তাঁর বাঁ চোখের দিকে চোট লেগেছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তার মাথার সিটি স্ক্যান করার জন্য শেখপাড়া সিটি ইমেজিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলি করা হয়েছিল ওসমান হাদিকে। সেই ঘটনায় একধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্তকে ধরা সম্ভব হয়নি। এদিকে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই সেই দেশে চরম ভারত বিরোধিতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন এবং সহকারী হাইকমিশনগুলিতে হামলার চেষ্টা করেছে কট্টরপন্থীরা। দাবি করা হয়, ওসমান হাদির হত্যাকারী নাকি ভারতে পালিয়ে চলে গেছে। এমনকী হাদির মৃত্যুর জন্য ভারতকে দায়ী করা হয়। তবে এবার হাদির হত্যাকারীকে নিয়ে নয়া দাবি করল বাংলাদেশি পুলিশ।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাদির হত্যাকারী ফয়সাল করিম বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে গেছেন কি না, তা নিয়ে তাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। এমনকী তিনি এও বলেন, ‘অনেক সময়ই তন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়।’ অর্থাৎ, পুলিশের দাবি, তাদের বিভ্রান্ত করতে ভুয়ো দাবি করা হয়ে থাকতে পারে যে ফয়সাল ভারতে।

উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপে ফের হামলা হয়। ধরানো হয় আগুন। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে উন্মত্ত জনতা। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যায় – ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *