‘বিড়ি ছুঁড়েছিল কে?’ ৪ বছর বয়সেই সাফল্যের মূলমন্ত্রের পাঠ মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় জনসভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তেমনই বৃহস্পতিবার পানিহাটির নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই কেন্দ্রে আরজি করের নির্যাতিতার মা বিজেপি প্রার্থী হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছেই। সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, ধমক বা চমক দিয়ে তাঁকে দমানো অসম্ভব।

এদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা এবং দিল্লি থেকে আসা বিজেপি নেতাদের বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী ছন্দের আদলে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘ওহে মোটাভাই, সাথে ইডি, সিবিআই। দিল্লিতে থেকে এল গাই, সাথে ইডি, সিবিআই। হুমকি দিচ্ছেন সকলকে। ধমক দিচ্ছেন। ওঁর কাজ ফোন করে ধমকানো।’ তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, অনেককে কব্জা করার চেষ্টা চললেও তাঁর ক্ষেত্রে তা সফল হয়নি। তাঁর কথায়, ‘কেউ কেউ কিছু পাওয়ার জন্য মাথা নত করে। আমাকে কব্জা করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, পারেনি। পারবেও না।’ ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বুঝিয়ে দেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তাঁর মজ্জাগত। বাবার শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার যখন চার বছর বয়স, তখন একবার মুদির দোকানে গেছিলাম। এক জন বিড়ি ছুড়ে দেয়। একটা ছেলের গেঞ্জি পুড়ে গেল। পাড়ায় সভা ডাকা হয়। সেখানে জিজ্ঞেস করে, কে করেছে। আমি বলে দিই। বাবা বলেছিল, কেন বললি। আমি বলেছিলাম, সত্যি বলবই। এটা ব্যর্থতা বা স্বার্থকতা হতে পারে।’ এই ভয় না পাওয়া মানসিকতাই তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র বলে দাবি করেন নেত্রী।

ভোটের মুখে বিজেপির ‘কুৎসা’ নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের বিশেষ সতর্ক করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট নিয়ে তাঁর বার্তা অত্যন্ত কড়া। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন বিজেপি কুৎসা করছে। পরিকল্পনা করছে। নিজের ভোট নিজে দেবেন। ইভিএম খারাপ হলে তাতে ভোট দেবেন না। অনেক অপেক্ষা করেছেন লাইনে, এক দিন একটু অপেক্ষা করবেন। ভিভিপ্যাট ছাড়া ভোট দেবেন না। নতুন যন্ত্র এলে এজেন্টকে দেখতে হবে, তাঁর ভোট তাঁর দলেই পড়ছে কি না! এঁদের বিশ্বাস করি না।’ তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, ‘বাংলাকে বাঁচাতে হলে, আপনাদের দরকার টিএমসি সরকার। আমি কাউকে কটুক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমা রাখবেন। বিজেপি মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। বাংলাকে টার্গেট করে নাম কেটেছে। সমস্ত অফিসারদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যাদের এনেছেন তাদেরকে রোজ চমকাচ্ছেন। অন্য কাউকে ভোট দেবেন না। অন্য কোন পার্টি জিতবে না। সেক্ষেত্রে বিজেপি জিতে যায় ঠিক হবে না। আমি বিপদের দিনের বন্ধু।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *