২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের রণ দামামা বেজে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করেছেন প্রার্থীরা। গতকাল ৮ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তার পর দিনই পানাহাটিতে মনোনয় জমা দিলেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা।
বৃহস্পতিবার হুডখোলা জিপে মনোনয়ন পেশ করতে যান আর জি কর-এ নির্যাতিতার মা। মনেনয়ন পেশের দিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানে বিজেপির তরফে রাজ্যের পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব। এছাড়াও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও ছিলেন তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন পেশের সময়। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে স্মৃতি বলেন,’ এই মা কি একা লড়বে ? আপনাদের সবাইকে এই লড়াই লড়তে হবে।’ এদিন নির্যাতিতার বাবা সহ বিজেপির দলীয় কর্মীরাও শামিল ছিলেন এই
সুসজ্জিত গাড়িতে এদিন ব্যারাকপুরের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে মনোনয়ন পেশ করেন এই বিজেপি প্রার্থী। তিনি পানিহাটি কেন্দ্র থেকে নিজের মনোনয়ন পেশ করেছেন। এদিন প্রার্থীকে নিয়ে বিজেপি পদযাত্রাও করে। মনোনয়ন পেশ করতে যাওয়ার পথে আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির পদ্ম প্রার্থী-ও জানান, যেখানেই নারীদের ওপর অন্যায়, অত্যাচার হবে সেখানেই তিনি ছুটে যাবেন ।

৯ সংখ্যার তাৎপর্য-
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট শহরের তাবড় মেডিক্যাল কলেজ আরজি কর-এর অন্দরে নির্যাতিতার দেহ মেলে। ধর্ষণ ও খুন, এই দুই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, সঞ্জয় রাই নামের এও যুবককে। তবে পুলিশি তদন্ত ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন, নির্যাতিতার সহপাঠীরা। প্রশ্ন তোলে নির্যাতিতার পরিবারও! শুরু হয় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, আন্দোলন। একের পর এক মেডিক্যাল কলেজ নামে প্রতিবাদে। রাতভর ধরনা হয়। বিক্ষোভে শামিল হন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। কার্যত রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়তে থাকে। সাধারণ মানুষকেও এই প্রতিবাদে শামিল হতে দেখা যায়। সেই ৯ অগস্টের পর, আজ ৯ এপ্রিল। আরও এক ৯ তারিখে এবার ভোটের লড়াইয়ের ময়দানের জন্য মনোনয়ন পেশ করলেন নির্যাতিতার মা।