ভবানীপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’! চণ্ডীপাঠের পরই সায়নী বললেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

Spread the love

নির্বাচনী ময়দান হোক বা জনসভা— সায়নী ঘোষের উপস্থিতি মানেই বাড়তি উত্তেজনা। সম্প্রতি মমতার কেন্দ্র ভবানীপুরের এক জনসভায় সায়নীকে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আঙ্গিকে। ভাষণের মাঝেই তিনি বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র প্রার্থনাগুলো পাঠ করেন, যা উপস্থিত জনতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। আর এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।

সায়নীর মাস্ট্রারস্ট্রোক:

বাংলা ও হিন্দির মিশ্রণে জনতাকে সম্বোধন করে সায়নী উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্য়ে বলেন, ‘এখানে (ভবানীপুরে) এক বাড়ি থেকে আপনি শুনতে পাবেন, ‘ইয়া দেবী সর্বভূতেশু শক্তি রূপেন সংস্থিতা, নমস্তাস্যই নমস্তাস্যই নমো নমঃ…’।’ এটি হিন্দু ধর্মীয় রচনা ‘দুর্গা সপ্তশতী’র জনপ্রিয় সংস্কৃত মন্ত্র বা চণ্ডীপাঠ। দুর্গাপূজা এবং নবরাত্রির সময় বাংলায় সাধারণত সংস্কৃত শ্লোকগুলি ব্যবহৃত হয়। এই মন্ত্র ছাড়া অসম্পূর্ণ হিন্দু বাঙালির জীবন। এরপরই সায়নী বলেন, ‘অন্য গলি থেকে আপনি শুনতে পাবেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’।

বিজেপিকে কড়া আক্রমণ:

ভিডিওটিতে সায়নীকে বলতে শোনা যায়, ‘বিজেপি দেশটাকে ধর্মের নামে ভাগ করতে চায়। ওরা বিভাজনের রাজনীতি করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।’ এই বিভেদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সায়নী বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভারতের মূল শক্তি হলো তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। তাই বিজেপির বিভেদের রাজনীতি রুখতে বাংলায় মোদী-শাহদের রুখতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পক্ষেই, দাবি তৃণমূল সাংসদের।

প্রার্থনার সুরে সম্প্রীতির বার্তা:

সায়নী তাঁর ভাষণের একপর্যায়ে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টান— সব ধর্মের মূল প্রার্থনাগুলো উচ্চারণ করেন। তাঁর কথায়, ধর্মের নাম করে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ করা আসলে ঈশ্বর বা আল্লাহকে অপমান করা। সায়নীর এই সংবেদনশীল এবং কৌশলী পদক্ষেপকে অনেকেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে এ ধরনের সম্প্রীতির বার্তা অত্যন্ত জরুরি।ভাইরাল ভিডিওর প্রভাব:

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি শেয়ার হতেই ভিউ আর শেয়ারের বন্যা বয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা একে সায়নীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখলেও, বিরোধী শিবিরের অনেকে একে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে সায়নী আবারও প্রমাণ করলেন যে, তিনি কেবল রুপোলি পর্দার নায়িকা নন, বরং মাঠের রাজনীতির একজন পোড়খাওয়া খেলোয়াড়। সায়নী ঘোষ এখন নিজের পোশাক থেকে স্ট্রাইল সবেতেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেে অনুকরণ করেন। প্রকাশ্যে সে কথা স্বীকারও করে নেন সায়নী। মমতার কেন্দ্র তাঁর হয়ে ভোটপ্রচারে তৃণমূলের এই যোগ্য সৈনিক যে ঝড় তুললেন তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *