ভারতীয় নৌসেনার হাতে রণতরী তুলে দিয়েছে কলকাতার গার্ডেন রিচ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড। রিপোর্ট অনুযায়ী, অঞ্জদীপ নামের রণতরীটি হল অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট। এই রণতরীটি চেন্নাই পোর্ট ট্রাস্টে তুলে দেওয়া হয় ভারতীয় নৌসেনার হাতে। সেই সময় নৌসেনার তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল গৌতম মারওয়া। এই নিয়ে চলতি বছরের চতুর্থ রণতরীটি নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছে গার্ডেন রিচ। এই অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফটগুলিকে এল অ্যান্ড টি শিপইয়ার্ডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি করছে গার্ডেন রিচ।
এই অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট সিরিজের রণতরীগুলি ৭৭ মিটার লম্বা। কর্ণাটকের কারওয়ার উপকূলের অদূরে অবস্থিত অঞ্জদীপ দীপের নামে রাখা হয়েছে এই রণতরীটির নাম। এর আগে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ভারতীয় নৌসেনার হাতে পেটায়া ক্লাসের একটি করভেট ছিল এই একই নামে। এর আগে অর্ণলা এবং আনদ্রথ নামে দুটি অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট ভারতীয় নৌসেনাকে ডেলিভার করেছে গার্ডেন রিচ। এছাড়া চলতি বছরে অ্যাডভান্স গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট ‘হিমগিরি’ নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছিল নৌসেনা।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেই আনদ্রথ নামে একটি রণতরী ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছিল গার্ডেনরিচ। আর এবার অঞ্জদীপ জাহাজটি নৌসেনাকে হস্তান্তর করা হল। এই রণতরী তৈরিতে ৮৮ শতাংশ সামগ্রী এবং উপকরণ দেশীয় বলে জানা গিয়েছে। এই রণতরী সজ্জিত থাকবে ভারতে তৈরি অস্ত্রে। সব মিলিয়ে এখন গার্ডেন রিচের হাতে রয়েছে ১২টি রণতরী তৈরির দায়িত্ব। এর মধ্যে দুটি পি১৭এ সিরিজের জাহাজ রয়েছে, পাঁচটি অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটারক্রাফট, একটি সার্ভে ভেসেল ও চারটি নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল। এরই সঙ্গে জার্মান সংস্থার জন্য একাধিক মাল্টিপারপাস ভেসেল তৈরি করছে গার্ডেন রিচ। সব মিলিয়ে আজও পর্যন্ত গার্ডেন রিচ ৭৭টি রণতরী নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছে। আর তারা তৈরি করেছে মোট ১১৫টি জাহাজ। এদিকে সম্প্রতি ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে মৎস্যজীবীদের বোটে ধাক্কা মেরেছিল বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝে এই ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এরই মাঝে অবশ্য গার্ডেন রিচ একের পর এক রণতরী তুলে দিচ্ছে নৌসেনার হাতে।
