বাংলাদেশে নিহত হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের ভাই অপু দাস জানিয়েছেন, তিনি ভারতে যেতে চান। ২৫ বছর বয়সি দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশে হত্যা করা হয়েছিল। দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে হিন্দুদের অবনতির কঠোর সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। এই আবহে সিএনএনের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দীপু দাসের ভাই জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত। তাঁরা আর বাংলাদেশে থাকতে চান না। অপু বলেন, যদি তাঁদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া হয় তবে তাঁরা ভারতে যেতে চান।
এদিকে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। উল্লেখ্য, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয় ময়মনসিংহে। ঘটনায় মৃতের নাম দীপু চন্দ্র দাস। ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়। মৃত দীপু তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় শ্রমিক ছিলেন। সেই কারখানাতেই নাকি পিটিয়ে খুন করা হয় দীপুকে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দীপুর মৃতদেহ এরপর ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়েতে নিয়ে যায়। সেখানে রাস্তার পাশে তাঁর মৃতদেহ ফেলে রেখে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনার জেরে রাস্তা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অনেকক্ষণ পরে যায়। বাংলাদেশে ‘মব সংস্কৃতি’ ক্রমেই আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এছাড়া সেই দেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারও থামছে না। ময়মনসিংহের এই ঘটনা তারই উদাহরণ।

তদন্তে নেমে ব়্যাব জানায়, দীপুর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার যে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে এই মৃত্যু ঘিরে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ভারতের তরফ থেকে বাংলাদেশকে সব দোষীদের সাজা দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই বার্তা পেয়ে আবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে ঢাকা। এদিকে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে দীপুর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে। যার জেরে বাংলাদেশ আবার দিল্লি, শিলিগুড়ি এবং আগরতলায় ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।