তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন উত্তর ব্যারাকপুরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রাবণী কাশ্যপী। গত ২১ ডিসেম্বর শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর পাশে বসেই দলবদলের ঘোষণা করেন শ্রাবণী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন তাঁকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। সেই ‘লাঞ্ছনা’ সহ্য করতে না পেরেই তিনি দল বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান শ্রাবণী। এদিকে স্ত্রীর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন স্বামী মৃণ্ময় কাশ্যপীও। এই মৃণ্ময় একদা ছিলেন জ্যোতির্ময় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক নেতা।
এদিকে ব্যারাকপুরের কাউন্সিলরকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে অর্জুন সিং বলেন, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমি তাঁদের ঝাঁঝালো মন্তব্যগুলি শুনেছি। তা শুনেই এখানে এলাম। আমি তাঁদের বলেছি, তৃণমূলে থেকে তৃণমূলের বিরোধিতা করে কী হবে? আমি তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের কথা বলেছি।’ এরপর তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী বলেন, ‘অর্জুন সিংয়ের সান্নিধ্যে আমরা বিজেপিতে যোগদান করব। আমরা তৃণমূলে অপমানিত। আমি কাউন্সিলর হয়েও দলে কোনও যোগ্য সম্মান পাইনি। এছাড়াও তৃণমূল যেভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, এই দল করা যায় না।’ তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনই দলবদল হচ্ছে না এই শ্রাবণী এবং মৃণ্ময়ের। অর্জুন জানান, পৌষ মাস শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে যোগ দেবেন এই দুই নেতা।
এদিকে দলবদল নিয়ে জ্যোতির্ময় মল্লিককে তোপ দাগেন মৃণ্ময়। কাউন্সিলরের স্বামী বলেন, ‘চোরের ছায়াসঙ্গী কি কেউ থাকতে চায়? রাজনৈতিক কারণে এক সময় ছিলাম। উনি খাদ্যমন্ত্রী হয়ে গরিব মানুষের চাল চুরি করেছেন। মানুষ লিস্ট বানাচ্ছে, কোন তৃণমূল নেতা কার থেকে কত টাকা নিয়েছেন।’ এদিকে মৃণ্ময়ের বিষয়ে অর্জুন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ওর (মৃণ্ময়) সম্পর্ক তো ছিলই। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দুর্নীতি ফাঁস করার জন্য মৃণ্ময়ের অনেকটা সহযোগিতা ছিল।’ এই ঘটনার পরে ব্যারাকপুরের লোকসভা সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘কাউন্সিলরের স্বামী লোকসভা ভোটের সময় থেকে বিজেপিকে সাহায্য করছে। সকলের এটা জানা। তাই এনিয়ে বলার কিছু নেই।’
