মমতা সরকারের টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে খোঁচা অনুষ্কার

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো টলি-তারকা প্রকাশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অতীতের পুরষ্কার বিতরণী সংস্কৃতিকে নিয়ে এমন তীব্র উপহাস করলেন। রাজ্যে এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার এখন অতীত। এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ তথা অভিনেত্রী অনুষ্কা নিজের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘পশ্চিমবঙ্গ টেলি অ্যাকাডেমি সম্মান’ (West Bengal Tele Academy Awards)-কে সরাসরি ‘কম্বল বিতরণ’-এর সাথে তুলনা করে এক মস্ত বড় বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন।

বিগত মমতা সরকারের আমলে টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড মানেই ছিল শাসকদল ঘনিষ্ঠ চাঁদের হাট। অনেকেই রসিকতা করে বলতেন, ক্ষমতার অলিন্দের কাছাকাছি থাকলেই এই পুরস্কার পাওয়া বাঁহাতের খেল। দিদির স্নেহধন্য তারকাদের কেউই প্রায় খালি হাতে ফিরতেন না সেই অ্যাওয়ার্ড শো থেকে। তবে গত বছরগুলোতে অনুষ্কার ভাগ্যে কোনো পুরস্কার (শিকে) ছেঁড়েনি। আসলে তিনি বরাবরই তৎকালীন তৃণমূল সরকারের থেকে একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।

এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আসার পর নিজের সেই জমে থাকা ক্ষোভ ও খোঁচা উগরে দিয়ে অনুষ্কা তাঁর পোস্টে লেখেন: ‘শীতকালীন কম্বল বিতরণ… সরি, অ্যাওয়ার্ড বিতরণ এর অনুষ্ঠানটা হবে এ বছর?’

তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টটি যে সরাসরি অতীতের ‘চাটুকারিতা’ ও ‘দলদাস’ সংস্কৃতির উদ্দেশ্যেই করা, তা বুঝতে কারোরই বাকি ছিল না।

‘কম্বল পাওনি বলে আজ এই কথা বলছো!’— নেটপাড়ার ট্রোলের জবাবে অনুষ্কা

অনুষ্কার এই বিস্ফোরক পোস্টের পর নেটিজেন এবং ভক্তদের একাংশ তাঁকে সমর্থন করলেও, ট্রোলাররা কিন্তু ছেড়ে কথা বলেনি। অনেকেই দাবি করেছেন, বিগত বছরগুলোতে নিজে কোনও অ্যাওয়ার্ড বা স্বীকৃতি পাননি বলেই আজ আঙুর ফল টক মনে হচ্ছে অভিনেত্রীর।

কমেন্ট বক্সে এক নেটিজেন সরাসরি খোঁচা দিয়ে লেখেন— ‘আগে কম্বল পাওনি (পুরস্কার পাওনি) বলেই আজ এত কথা বলছো!’ তবে ট্রোলের মুখে দমে যাওয়ার পাত্রী নন অনুষ্কা। সেই মন্তব্যের জবাবে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পাল্টা চাল দিয়ে নায়িকা লেখেন: ‘পাবো কেন? এত সহজে কি জীবনে কিছু পাওয়া যায়? অনেক কষ্ট করতে হয়!’

তাঁর এই ‘অনেক কষ্ট করতে হয়’ মন্তব্যের আড়ালেও যে এক গভীর উপহাস লুকিয়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট। তিনি পরোক্ষে বোঝাতে চেয়েছেন, পুরস্কার পাওয়ার জন্য অভিনয়ের চেয়েও ক্ষমতাশালীদের মন জুগিয়ে চলার যে ‘কষ্ট’ করতে হতো, তা তিনি কোনওদিন করেননি।

কেরিয়ার বনাম চাটুকারিতার বিতর্ক

বাংলায় এখন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারের জমানায় বিনোদন জগতের চালচিত্র কেমন হয়, তা নিয়ে যখন চর্চা চলছে, ঠিক তখনই অনুষ্কার এই পোস্টটি এই মুহূর্তে টলিপাড়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক চরম ক্ষোভকে সামনে এনে দিয়েছে। পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তারকাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো এতদিন ধামাচাপা পড়েছিল, অনুষ্কার এই ‘কম্বল বিতরণ’ পোস্টটি যেন সেই ক্ষতেই নতুন করে নুন ছিটিয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *