CBI Investigation Powers: দীর্ঘ আট বছর পর সিবিআই-কে পশ্চিমবঙ্গে তদন্তের জন্য সাধারণ সম্মতি দিল রাজ্য সরকার। এই মর্মে সোমবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ও পাবলিক সেক্টর ইউনিট সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে সিবিআই। বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্তের সুযোগ থাকবে, যদি মামলায় কেন্দ্রীয় কর্মী বা সংস্থার যোগ থাকে। তবে ২০১৮ সালে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্যে সিবিআই-এর অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ফলে যে কোনও তদন্তের জন্য রাজ্যের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হত। সেই সময় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, প্রভাবশালীদের বাঁচাতেই কী ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল? অবশেষে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নিল।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ধারা ৬ অনুযায়ী সিবিআই-কে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তদন্ত করার ‘জেনারেল কনসেন্ট’ দেওয়া হয়েছে। ওই আইন অনুসারেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সিবিআই তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সম্মতির বিষয়টি নির্ধারিত হয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ বা অপরাধের তদন্ত করতে পারবে সিবিআই। এমনকী কোনও মামলায় যদি কেন্দ্রীয় কর্মী বা কেন্দ্রীয় সংস্থার যোগসূত্র থাকে, তা হলে সেই মামলায় জড়িত বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানোর অধিকার থাকবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।
তবে রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ কোনও সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে হলে সিবিআইকে আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে। অর্থাৎ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি তদন্ত শুরু করতে পারবে না। সেই ক্ষেত্রে রাজ্যের সম্মতি অপরিহার্য। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইতিমধ্যেই সিবিআইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকেও বিজ্ঞপ্তির কপি পাঠানো হয়েছে। ফলে তদন্ত সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকাই কার্যকর হবে। নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গে সিবিআই তদন্তের পরিধি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান হল বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে প্রশাসনের এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন রাজ্যে সিবিআই তদন্তের গতি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে, তেমনই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে শর্ত বজায় রাখায় নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক কাটাছেঁড়াও শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার রাজ্যে ‘জেনারেল কনসেন্ট’ প্রত্যাহার করার পরেও সিবিআই একের পর এক মামলায় এফআইআর করছিল। তার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। সেই মামলায় হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, রাজ্যের এ রকম সীমাহীন ক্ষমতা নেই। কোনও অভিযুক্তকে আড়াল করার জন্য বা রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্য এই ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারে না। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, দেশের প্রায় সব বিজেপি বিরোধী রাজ্যের সরকারই সিবিআই তদন্তে ‘জেনারেল কনসেন্ট’ প্রত্যাহার করেছে।
