ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস। বলেছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, তার আদর্শকে নয়।’
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান হচ্ছে। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হওয় সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠান।
রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নিচ্ছেন। এ সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। বলেন, খামেনির কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলাকালে কোনো হামলা হবে না। তিনি বলেন, চাইলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ‘নির্মূল’ করা সম্ভব ছিল, তবে তা করলে ‘আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকত না।’
একই সঙ্গে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন ইরানের মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে, তাই তার জানাজায় এত মানুষের শোক প্রকাশ তাকে অবাক করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।

আজ রোববার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় দূতাবাস লিখেছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির শিশি ভেঙেছেন, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনারা এসব বুঝবেন না, কারণ আপনাদের নেই সভ্যতা, নেই ইতিহাস, নেই সম্মান।’
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্টান শেষে আগামী ১১ জুলাই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হবে বলে শনিবার এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।