সম্প্রতি জাভেদ আখতারের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন মুফতি শামাইল নদভি। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মুফতির আরও একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি। এই আবহে নদভির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা। মৌলানা নদভির বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিয়ো এক্স পোস্টে শেয়ার করেছেন সুজাত আলি কাদরি। সেই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে রাজীব শুক্লা। তাতে তিনি লেখেন, ‘এই মৌলানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবিধানের ঊর্ধ্বে কিছু নেই।’
উল্লেখ্য, সেই ভাইরাল ভিডিয়োতে মৌলানা মুফতি শামিল নদভি বলেছিলেন, ভারতের মুসলমানরা ভুল পথেই হাঁটছে। তারা সবসময় ভেবেছিল যে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন এবং দলগুলি তাদের স্বার্থে হবে। এটা নয়। তিনি বলেন, মুসলমানরা বরাবরই সংবিধানকে তাদের দ্বীনের ঊর্ধ্বে রেখেছেন, কিন্তু তা করা ভুল। নদভি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি সংশোধন করা হোক, তবে যে কোনও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমাধান রয়েছে। এ দেশে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভুল। আমরা ঘুরে বেড়ালাম এই বলে যে, আমাদের দেশ আমাদের দ্বীনের চেয়েও ওপরে। আমরা বলতে থাকি যে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন আমাদের দ্বীনের চেয়ে ভালো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যদি কোনও নির্দিষ্ট আদালত রায় দেয় তবে আমরা তা গ্রহণ করব। এটা কি করা যায়? আল্লাহ যদি কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে অন্য কারও আনুগত্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
মুফতি শামিল নদভির বক্তব্য নিয়ে আপত্তি কারণ তিনি বলেছেন যে ধর্ম সংবিধান ও দেশের ঊর্ধ্বে। অতীতেও এমন প্রশ্ন উঠেছে, কেন মৌলবাদী মুসলমানরা দেশের থেকে ধর্মকে ওপরে বলে দাবি করেন। নিয়ে কথা বলে। মুসলিম স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান সুজাত আলি কাদরিও প্রশ্ন তুলেছেন। সুজাত আলি কাদরি লেখেন, ‘মৌলানা নদভির এই বক্তব্য ভারতের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী। ভারতের মুসলমানরা হিন্দু রাষ্ট্রের সমর্থক নয় বা ওয়াহাবি শরীয়তের নামে কোনও ধর্মীয় শাসনের সমর্থক নয়। আমাদের পথ হচ্ছে সংবিধান, গণতন্ত্র ও সমান নাগরিক অধিকার। এই ধরনের বিবৃতি অনুচ্ছেদ ১৪, ১৫, ১৯ এবং ২৫-এর চেতনার বিরুদ্ধে এবং বিএনএসের ধারা 196 এবং 197 এর অধীনে দণ্ডনীয়। ‘
