লোহিত সাগরে সৌদি সামরিক জাহাজে হামলার দাবি হুতির

Spread the love

লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি সামরিক জাহাজ ও সেটির সঙ্গে থাকা চারটি সহযোগী নৌযানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি সামরিক জাহাজ ও চারটি এসকর্ট নৌযান লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

 

তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় সৌদি সামরিক জাহাজটিতে ব্যাপক আগুন ধরে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসকর্ট হিসেবে থাকা কয়েকটি নৌযানও ডুবে গেছে এবং অন্য কয়েকটিতে আগুন ধরে যায়। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
 
হুতি সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং সৌদি সামরিক অবস্থানগুলোতে হামলা চালানো হবে।
  

মোখা উপকূলে উত্তেজনা বাড়ছে

 

হুতিদের সর্বশেষ দাবির ঘটনাটি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের মোখা বন্দরের আশপাশে সামুদ্রিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ঘটেছে। গত কয়েক দিনে হুতিদের হামলার কারণে মোখা বন্দরে বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
 
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হুতিদের হামলায় মোখা এলাকায় ২৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে সাতজন নিহত এবং প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বন্দরের পরিচালক জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ‘তিহামাহ’ নামের একটি মিসরীয় মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজে হুতি হামলায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক ছিলেন। আরও দুই ইয়েমেনি উদ্ধারকর্মী নিহত হন।
 
হুতিদের দাবি, ওই জাহাজে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। তবে সেই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
 

সৌদি জাহাজে হামলার হুমকি আগেই দিয়েছিল হুতিরা

 

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের সামুদ্রিক তৎপরতা গত কয়েক সপ্তাহে আরও বেড়েছে। জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে সৌদি-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে একাধিক হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
 
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের লোহিত সাগর দিয়ে তেল রফতানির কিছু অংশ গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ট্যাংকার তাদের স্বয়ংক্রিয় জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু জাহাজ বাব আল-মান্দাব এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছে।
 
হুতিদের সর্বশেষ দাবি সত্য হলে সৌদি সামরিক ও নৌ স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের হামলার মাত্রা আরও বাড়ল। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
 
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হওয়ায় এই ধরনের হামলা শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সংঘাতেই নয়, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *