ট্রাম্পের হুমকির পর ‘আক্রমণাত্মক’ হওয়ার ইঙ্গিত ইরানের

Spread the love

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়েছে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই। সমঝোতাটির লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাত বন্ধ করে বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালানো। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মুখে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে চান না। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

 

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হয়।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার আর কোনো কার্যকারিতা নেই। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তা মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
 
সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল, সেটি আর সম্প্রসারণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানান তিনি।
 
এর মধ্যেই আইআরজিসি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তাদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান আক্রমণাত্মক কৌশলে রূপ নিতে পারে। সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই ইরানকে সরাসরি আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানকে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করতে বলেন।
 
এদিকে হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচলের পথ বের করতে ইরান ও ওমানের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দুই দেশ নতুন সামুদ্রিক রুটের মানচিত্রে একমত হয়েছে। এখন ওই মানচিত্রের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
 
আলোচনায় জটিলতা ও বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকলেও, দুই দেশ নিজেদের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ওমানের ভূমিকা নিয়েই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওমান ভালো আচরণ করেনি এবং পরিস্থিতি সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে সহজেই ব্যবস্থা নিতে পারে। এর আগে ওমান বাধা দিলে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।
 
এরই মধ্যে ইরানের সামরিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত মিলছে। আইআরজিসির সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি বলেছেন, তেহরানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ প্রতিরোধের নীতির কথা বলছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *