বলিউডে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দেহরক্ষীদের উপার্জন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কেউ কেউ দাবি করেন যে বড় মাপের তারকা যেমন- শাহরুখ খান, সলমন খানের দেহরক্ষীরা কোটি কোটি টাকা আয় করেন। তবে, শাহরুখ খানের প্রাক্তন দেহরক্ষী ইয়াসিন খান তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে খোলাখুলি ভাবে কথা বলেছেন এবং সবাইকে আসল সত্যটা জানিয়েছেন। তিনি বেশি বেতনের দাবিগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান যে, কিছু দেহরক্ষী বছরে ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকা আয় করেন এই দাবিগুলো অতিরঞ্জিত।
ইয়াসিন বলেন, ‘আমার মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়া ভুল বার্তায় ছড়ানো হয়। ২-২.৫ কোটি টাকা আয় কেউ করছে না আমাদের পেশায়। কেউ যদি কোনও বড় তারকার দেহরক্ষী হন, তাঁরও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন থাকে। তাছাড়া, যখনই কোনও সিনেমা তৈরি হয়, তার জন্য একটা আলাদা চুক্তি করা হয়।’
হিন্দি রাশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াসিন খান জানান, প্রযোজকরা সিনেমার ওপর ভিত্তি করে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন। তিনি জানান, একটা সময় ছিল যখন প্রজেক্ট-ভিত্তিক পারিশ্রমিক থেকে দেহরক্ষীদের বাদ দেওয়া হত। তিনি বলেন, ‘যতদূর আমার মনে পড়ে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দেহরক্ষীরা কোনও পারিশ্রমিক পেত না। শুধু ড্রাইভার, মেকআপ ম্যান এবং স্পট বয়রাই পারিশ্রমিক পেত। যখন আমি শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ শুরু করি, তখন আমার মনে হল আমিও কাজ করছি। আমরা পারিশ্রমিক পেতাম, কিন্তু তা শুধু বেঁচে থাকার জন্যই যথেষ্ট ছিল।’
ইয়াসিন দাবি করেন যে, তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন, যার ফলে পরবর্তীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে বলেছিলাম, ‘চুক্তিভুক্ত অন্যদের মতো আমাদেরও পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত।’ প্রথমে এটি কোনও নিয়ম ছিল না, কিন্তু পরে আমরা পারিশ্রমিক পেতে শুরু করি। তখন লোকজন বলতে লাগল, ‘শাহরুখের দেহরক্ষীরা যদি পারিশ্রমিক পায়, তাহলে আমাদেরও পাওয়া উচিত।’ ধীরে ধীরে এটা একটা নিয়মে পরিণত হল। এখন বড় অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করা দেহরক্ষীদের এই ভাবেই পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।’

দেহরক্ষীরা প্রতি মাসে ৮-১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পান বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে ইয়াসিন অবশেষে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তারা বছরে এত টাকা আয় করেন। কেউ যদি নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করে তাদের টাকা দেয়, সেটা আলাদা কথা, কিন্তু সেটা তো বেতনও নয়। কে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা দেয়?’